ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • কেন্দ্রীয় ব্যাংক • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
সম্প্রতি দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের তারল্য সংকটের কারণে বাজারে ঋণের পরিমাণ কমে যায়। সংকট উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক হার কমিয়ে দেয়। এছাড়াও আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে Bangladesh Automated Clearing House (BACH) চালু করা হয়েছে।
- ক)(1)
মুদ্রাস্ফীতি কী?
- খ)(2)
কোন ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয় এবং কেন?
- গ)(3)
বাংলাদেশ স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘরের কার্যক্রম প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
ঋণদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার অনুষঙ্গিক শর্তাবলী আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে সামগ্রিক দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ও দীর্ঘস্থায়ী বৃদ্ধি পাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যখন তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে এবং অন্য কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম শ্রেণির বিল বা সরকারি সিকিউরিটিজ বাট্টাকরণ করে বাণিজ্যিক ব্যাংককে ঋণ সহায়তা দিয়ে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকই শেষ ভরসা হিসেবে কাজ করে বলে একে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর বা Bangladesh Automated Clearing House (BACH)-এর প্রধান দুটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে—বাংলাদেশ চেক এনক্যাশমেন্ট অ্যান্ড ক্লিয়ারিং সিস্টেম (BACPS) এবং বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (BEFTN)। নিম্নে চেক নিষ্পত্তির প্রধান ধাপসমূহ বর্ণনা করা হলো:
১. প্রেজেন্টিং ব্যাংকে চেক জমা ও ডেটা প্রস্তুতকরণ: গ্রাহক যখন অন্য কোনো ব্যাংকের চেক তার নিজস্ব ব্যাংকে (উপস্থাপনকারী ব্যাংক) জমা দেন, তখন ব্যাংকটি চেকের ডিজিটাল ইমেজ স্ক্যান করে এবং MICR ডেটা এনক্রিপ্ট করে প্রস্তুত করে।
২. BACH প্ল্যাটফর্মে ডেটা প্রেরণ: উপস্থাপনকারী ব্যাংক প্রস্তুতকৃত ডিজিটাল চেক ও সংশ্লিষ্ট ডেটা ইন্টারনেট/নিরাপদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের BACH সার্ভারে প্রেরণ করে।
৩. প্রক্রিয়াকরণ ও ড্রয়ী ব্যাংকে তথ্য পাঠানো: স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর সংগৃহীত চেক ও নির্দেশনাসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজিয়ে সংশ্লিষ্ট ইস্যুকারী ব্যাংকের (ড্রয়ী ব্যাংক) কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে দেয়।
৪. ক্লিয়ারিং ও হিসাব সমন্বয়: ড্রয়ী ব্যাংক হিসাবের স্বাক্ষর ও পর্যাপ্ত স্থিতি যাচাই করে চেকে সম্মতি জানায় (বা অনাদায়ী হলে ফেরত পাঠায়)। সম্মতি পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ হিসাব ডেবিট ও ক্রেডিট করে অর্থ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের তারল্য সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ব্যাংক হার' হ্রাস করেছে। ব্যাংক হার নীতিটি সফল ও কার্যকর হওয়ার জন্য কিছু অনুষঙ্গিক শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক। নিচে শর্তাবলী আলোচনা করা হলো:
১. বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের দ্রুত সমন্বয়: কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংক হার কমানোর সাথে সাথে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও তাদের ঋণ ও আমানতের সুদের হার দ্রুত কমাতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সুদের হার না কমালে ঋণের চাহিদা বাড়বে না।
২. ঋণের কার্যকর চাহিদা বিদ্যমান থাকা: কেবল সুদের হার কমলেই ঋণ কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে না; বাজারে যদি বিনিয়োগ উপযোগী লাভজনক পরিবেশ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ গ্রহণের সক্রিয় চাহিদা না থাকে, তবে ঋণ প্রবাহ বাড়বে না।
৩. বাণিজ্যিক ব্যাংকে বিকল্প তহবিলের সীমাবদ্ধতা: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যদি নিজস্ব পর্যাপ্ত অলস অর্থ বা অন্যান্য সহজ উৎস থাকে, তবে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ সহায়তার তোয়াক্কা করবে না। ফলে ব্যাংক হার পরিবর্তন নীতি তাদের ওপর কার্যকর প্রভাব ফেলবে না।
৪. সংগঠিত মুদ্রাবাজারের উপস্থিতি: ব্যাংক হার নীতি বাস্তবায়নে দেশে একটি সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল ও সক্রিয় মুদ্রাবাজারের অস্তিত্ব থাকা প্রয়োজন। অসংগঠিত আর্থিক খাতের প্রাধান্য থাকলে নীতিটি ফলপ্রসূ হয় না।
৫. বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও সহনশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ: সামগ্রিক অর্থনৈতিক আস্থা ভালো থাকতে হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি বা মন্দা থাকলে বিনিয়োগকারীরা সুদের হার কম হলেও ঋণ নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না।
পরিশেষে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক হার হ্রাসের পদক্ষেপ সফল করতে হলে উপরিউক্ত সহায়ক শর্তগুলোর বাস্তব সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও