সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

চৌদ্দ শতকের একজন মুসলিম মনীষী ও ইতিহাসবেত্তা সর্বপ্রথম মানুষ সম্পর্কে একটি বিজ্ঞানের অভাব বোধ করেন। তিনি সামাজিক সংহতি বা বা গোষ্ঠী সংহতিকে গুরুত্বের সঙ্গে ব্যাখ্যা করেন। ঊনিশ শতকে আরো একজন ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী সমাজতাত্ত্বিক চিন্তার মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে সহায়তা করেন। তার চিন্তার মূল বিষয় ছিল সামগ্রিক ঘটনা, যার মাধ্যমে তিনি মানুষের শ্রমবিভাজন, আত্মহত্যার ব্যাখ্যা করেন। এভাবে সমাজবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন অবদানের ভিত্তিতে আজ সমাজবিজ্ঞান একটি স্বতন্ত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।

  1. ক)

    দৃষ্টবাদের জনক কে ?

    (1)
  2. খ)

    আদর্শ নমুনা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মানুষের শ্রম বিভাজন ও আত্মহত্যাতত্ত্ব কোন সমাজবিজ্ঞানীর ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মুসলিম মনীষীর সমাজবিজ্ঞান বিকাশের ক্ষেত্রে অবদানকে তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে ? যুক্তি উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টবাদের জনক হলেন ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁত (Auguste Comte)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আদর্শ নমুনা (Ideal Type) হলো সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত একটি তাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগত ধারণা, যা কোনো সামাজিক ঘটনা বা বাস্তবতার অন্তর্নিহিত মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহকে সমন্বিত করে তৈরি করা একটি বিমূর্ত বা কাল্পনিক মডেল।

    এটি কোনো আদর্শিক মানদণ্ড নয়, বরং সামাজিক বাস্তবতার কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যকে তাত্ত্বিকভাবে সুস্পষ্ট ও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করার জন্য তৈরি করা একটি অনুসন্ধানী কাঠামো। বাস্তব সামাজিক ঘটনা বা আচরণের সাথে এই মডেলের তুলনা করে সমাজতাত্ত্বিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ সহজতর করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মানুষের শ্রমবিভাজন ও আত্মহত্যাতত্ত্ব ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের (Émile Durkheim)।

    এমিল ডুর্খেইম সমাজবিজ্ঞানকে একটি স্বতন্ত্র ও বৈজ্ঞানিক মর্যাদা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি 'সামাজিক ঘটনা' (Social Facts)-কে সমাজবিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, সামাজিক ঘটনা হলো মানুষের চিন্তাভাবনা ও আচরণের এমন নিয়ম যা ব্যক্তির বাইরে অবস্থান করে এবং ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত শ্রমবিভাজন তত্ত্বটি ডুর্খেইমের ১৮৯৩ সালে প্রকাশিত 'The Division of Labour in Society' গ্রন্থে বিশদ আলোচিত হয়েছে, যেখানে তিনি যান্ত্রিক সংহতি ও জৈব সংহতির ধারণা দেন। অন্যদিকে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Suicide' (১৮৯৭)-এ তিনি আত্মহত্যাকে নিছক ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে না দেখে একটি সামাজিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং চার ধরনের আত্মহত্যার (আত্মকেন্দ্রিক, পরার্থমূলক, নৈরাজ্যমূলক ও নিয়তিবাদী) ব্যাখ্যা দিয়েছেন। উদ্দীপকের ফরাসি সমাজবিজ্ঞানীর এই দুটি মৌলিক তত্ত্বই এমিল ডুর্খেইমের অবিস্মরণীয় অবদান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত চৌদ্দ শতকের মুসলিম মনীষী হলেন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও সমাজচিন্তক ইবনে খালদুন (১৩৩২-১৪০৬ খ্রি.)। সমাজবিজ্ঞান বিকাশের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অপরিসীম এবং তাঁকে সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম অগ্রদূত ও প্রকৃত জনক হিসেবে বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত।

    সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে ইবনে খালদুনের অবদানের মূল্যায়ন নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. নতুন বিজ্ঞানের ভিত্তিপ্রস্তর: ইবনে খালদুন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'মুকাদ্দিমা' (Al-Muqaddimah)-তে মানবসমাজ ও সামাজিক সংগঠন বিশ্লেষণের জন্য 'ইলম আল-উমরান' (Ilm al-Umran) বা মানবসংস্কৃতি ও সামাজিক সংগঠনের বিজ্ঞানের ধারণা দেন, যা মূলত সমাজবিজ্ঞানেরই প্রাথমিক রূপ।
    ২. আসাবিয়া বা গোষ্ঠী সংহতি: উদ্দীপকে উল্লিখিত 'গোষ্ঠী সংহতি' বা 'আসাবিয়া' (Asabiyyah) তত্ত্বটি তাঁর অনন্য সৃষ্টি। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে আসাবিয়া সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলে এবং সাম্রাজ্য গঠন, উত্থান ও পতনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
    ৩. বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি: তিনি ইতিহাসকে নিছক রাজা-বাদশাহদের কাল্পনিক কাহিনী হিসেবে না দেখে কার্যকারণ সম্পর্ক ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের গতিধারা ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর যাযাবর বা বেদুইন সমাজ এবং নগর সমাজের মধ্যকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের মূলভিত্তি রচনা করে।

    পরিশেষে বলা যায়, অগাস্ট কোঁতের নাম দেওয়ার বহু শতাব্দী আগেই ইবনে খালদুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমাজের গঠন ও গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছিলেন। তাই সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশে তাঁর অবদান অনন্য ও মৌলিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন