‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ইকবাল মাহমুদ বিদেশ থেকে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন এবং তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। অবিভক্ত বাংলা তার স্বপ্ন। জনগণের ভালোবাসা তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন।

  1. ক)

    তিতুমীর কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন গণতন্ত্রের মানসপুত্র -বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তিতুমীর (সৈয়দ মীর নিসার আলী) ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং নীলকর ও জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে লড়াই করা এক ঐতিহাসিক শহীদ বীর বিপ্লবী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে একটি ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর অভ্যন্তরীণ ও শাসনতান্ত্রিক বিষয়ে সংবিধান স্বীকৃত পূর্ণ স্বাধীনতা বা কর্তৃত্ব ভোগ করাকে বোঝায়। এতে প্রদেশগুলো নিজস্ব বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষমতা লাভ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বিলেত (যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে এবং বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগদান করেন। তিনি ছিলেন নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির একনিষ্ঠ অনুসারী। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির প্রাক্কালে তিনি আবুল হাশিম ও শরৎচন্দ্র বসুকে সাথে নিয়ে একটি স্বাধীন ও অবিভক্ত সার্বভৌম বাংলা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এছাড়া ১৯৪৬ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (মুখ্যমন্ত্রী) নির্বাচিত হন।

    উদ্দীপকের ইকবাল মাহমুদের বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফেরা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা, অবিভক্ত বাংলার স্বপ্ন দেখা এবং অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দিকটি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবন ও কর্মকাণ্ডের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিত্ব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশ ও তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনীতির অন্যতম প্রধান স্থপতি এবং যথার্থ অর্থেই 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র'।

    তিনি সারা জীবন নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ওপর অবিচল আস্থা রেখেছেন। ক্ষমতার রাজনীতির চেয়ে জনগণের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন অর্জনে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা ও ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠনে তিনি অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিম লীগের স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক শাসন থেকে জনগণকে রক্ষা করা।

    আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে গেছেন। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করে তিনি পাকিস্তানের সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে এক মঞ্চে নিয়ে আসেন। জেল-জুলুম সহ্য করেও তিনি অসাংবিধানিক বা স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সাথে কখনো আপস করেননি। তাঁর সমগ্র জীবন ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় এবং শোষিত জনগণের স্বার্থরক্ষার সংগ্রামে নিবেদিত। তাই তাঁকে বাঙালি জাতি অত্যন্ত যথার্থভাবে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' অভিধায় ভূষিত করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন