কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

কামাল একটি উন্নত জাতের সাদা-কালো রং মেশানো অধিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভী পালন করেন। গাভীটির জাতের উৎপত্তি হল্যান্ডের ফ্রিজল্যান্ড প্রদেশে। গাভীটির অধিক পরিমাণে দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও সম্প্রতি কামাল লক্ষ্য করছেন তার গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন কখনো কম আবার কখনো বেশি হচ্ছে। এ বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন। কর্মকর্তা তাকে জানান যে, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় ও ব্যবস্থাপনার তারতম্যের কারণে গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন কম-বেশি হতে পারে।

  1. ক)

    কিড কী?

    (1)
  2. খ)

    পশুপালন গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত গাভীর জাতের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছাগলের সদ্যোজাত বা নবজাতক বাচ্চাকে কিড (Kid) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পশুপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি মানবদেহের প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস (দুধ ও মাংস) নিশ্চিত করে। এছাড়া পশুপালন গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে, বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং চামড়া, হাড় ও পশম সরবরাহের মাধ্যমে শিল্পখাতে অবদান রাখে। পাশাপাশি পশুর গোবর জৈব সার হিসেবে জমির উর্বরতা বাড়াতে এবং বায়োগ্যাস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত গাভীটির জাত হলো ‘হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান’ (Holstein Friesian)। এ জাতের প্রধান শারীরিক ও উৎপাদনশীল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. গায়ের রং: এদের গায়ের রং সাধারণত সুস্পষ্ট সাদা ও কালো ছোপ ছোপ দাগযুক্ত হয়ে থাকে।
    ২. শারীরিক গঠন: এদের দেহ বেশ বড়, দীর্ঘ এবং কঙ্কাল বেশ মজবুত। এদের পেছনের অংশ প্রশস্ত এবং ওলান সুগঠিত ও বৃহৎ আকারের হয়ে থাকে।
    ৩. দুগ্ধ উৎপাদন: এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ দুগ্ধ উৎপাদনকারী জাতের গাভী। এরা প্রতি দুগ্ধকালে গড়ে ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ লিটার বা তারও বেশি দুধ দিয়ে থাকে।
    ৪. মেজাজ ও রূপান্তর: এরা সাধারণত শান্ত স্বভাবের এবং এদের খাবার গ্রহণের ক্ষমতা ও তা দুধে রূপান্তরের দক্ষতা অত্যন্ত বেশি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উক্তিটি—"কিছু নির্দিষ্ট বিষয় ও ব্যবস্থাপনার তারতম্যের কারণে গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন কম-বেশি হতে পারে"—সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত এবং বিজ্ঞানসম্মত।

    দুগ্ধ উৎপাদনের তারতম্য ঘটার পেছনে প্রধান কারণসমূহ নিম্নে মূল্যায়ন করা হলো:
    ১. পুষ্টি ও সুষম খাদ্য: গাভীকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর দানাদার খাদ্য, তাজা সবুজ ঘাস এবং খনিজ লবণ না দিলে দুধের উৎপাদন কমে যায়। খাবারের মানের পরিবর্তন দুধ উৎপাদনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
    ২. পানির প্রাপ্যতা: দুধের প্রায় ৮৭% অংশই পানি। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব হলে তাৎক্ষণিকভাবে দুগ্ধ উৎপাদন হ্রাস পায়।
    ৩. দোহন ব্যবস্থাপনা: নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট ব্যবধানে প্রতিদিন একই নিয়মে দুধ দোহন না করলে হরমোন নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটে, ফলে দুধের পরিমাণ কমে যায়। এছাড়া দোহনকারীর পরিবর্তন বা গাভীকে ভয় দেখালেও এমনটি হয়।
    ৪. পরিবেশ ও আবহাওয়া: অতিরিক্ত গরম বা আর্দ্রতা গাভীর জন্য পীড়ন (Stress) তৈরি করে, যা দুগ্ধ উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
    ৫. স্বাস্থ্য ও রোগবালাই: ওলানপ্রদাহ (ম্যাসটাইটিস), পরজীবী বা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।

    সুতরাং, উন্নত জাত হওয়া সত্ত্বেও খাদ্য, পরিবেশ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে দুধের পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি হতে পারে; তাই কর্মকর্তার বক্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন