জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
প্লাজমিড কী?
- খ)(2)
প্রচলিত ফসল থেকে GM ফসল উন্নত হয় কেন?
- গ)(3)
চিত্র-'X' উৎপাদনের ধাপগুলো বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
কৃষিতে চিত্র-'Y' এ ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির ভূমিকা লেখ ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাকটেরিয়ার কোষে মূল ক্রোমোজোম বা জিনোমের বাইরে অবস্থিত স্বপ্রজননশীল, দ্বিসূত্রক ও বৃত্তাকার ডিএনএ অণুকে প্লাজমিড বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
GM (জেনেটিক্যালি মডিফায়েড) ফসল প্রচলিত ফসলের চেয়ে উন্নত, কারণ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির সাহায্যে এর জিনোমে সুনির্দিষ্ট কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বহির্গামী জিন প্রবেশ করানো হয়। এর ফলে GM ফসলগুলো রোগজীবাণু, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ, প্রতিকূল আবহাওয়া (যেমন- খরা, লবণাক্ততা) ইত্যাদি সহনশীল হয় এবং এগুলোর ফলন ও পুষ্টিমান প্রচলিত ফসলের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-'X' হলো রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ (Recombinant DNA)। রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির ধাপগুলো নিচে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:
১. কাঙ্ক্ষিত ডিএনএ নির্বাচন ও পৃথকীকরণ: নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ধারণকারী কাঙ্ক্ষিত ডিএনএ অণুকে দাতা জীবকোষ থেকে পৃথক করা হয়।
২. বাহক বা ভেক্টর নির্বাচন: রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির জন্য উপযুক্ত বাহক হিসেবে ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিড ডিএনএ নির্বাচন ও সংগ্রহ করা হয়।
৩. ডিএনএ অণু নির্দিষ্ট স্থানে কর্তন: একই রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction enzyme) ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ডিএনএ এবং প্লাজমিড ডিএনএকে নির্দিষ্ট স্থানে কাটা হয়, যার ফলে উভয় স্থানে পরিপূরক প্রান্ত সৃষ্টি হয়।
৪. কাঙ্ক্ষিত ডিএনএ খণ্ড বাহক প্লাজমিডে সংযুক্তিকরণ: ডিএনএ লাইগেজ (DNA ligase) এনজাইমের সাহায্যে কাটা প্লাজমিডের ফাঁকা স্থানে কাঙ্ক্ষিত ডিএনএ খণ্ডটিকে জোড়া লাগানো হয়। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত জিনযুক্ত নতুন বৃত্তাকার সংকর ডিএনএ অর্থাৎ রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ (চিত্র-X) উৎপন্ন হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-'Y' এ প্রদর্শিত প্রযুক্তিটি হলো উদ্ভিদ টিস্যু কালচার (Tissue Culture) বা মাইক্রোপ্রোপাগেশন প্রযুক্তি। কৃষিক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. দ্রুত ও বিপুল সংখ্যায় বংশবিস্তার: প্রচলিত পদ্ধতিতে যেসব উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি মন্থর বা কঠিন, টিস্যু কালচারের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে ক্ষুদ্র একটি এক্সপ্ল্যান্ট থেকে হাজার হাজার চারা উৎপাদন করা যায়।
২. রোগমুক্ত ও জীবাণুমুক্ত চারা উৎপাদন: শীর্ষ মুকুল বা ভাজক টিস্যু কালচার (মেরিস্টেম কালচার) করে ভাইরাস ও রোগমুক্ত সুস্থ চারা উৎপাদন সম্ভব হয় (যেমন- আলু, কলা)।
৩. ঋতু-নিরপেক্ষ চারা উৎপাদন: নিয়ন্ত্রিত ল্যাবরেটরি পরিবেশে সারা বছর যেকোনো ঋতুতেই চারা উৎপাদন করা সম্ভব।
৪. বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের সংরক্ষণ: যেসব উদ্ভিদের প্রাকৃতিক বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে বা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের টিস্যু কালচারের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও দ্রুত বংশবৃদ্ধি করানো যায়।
৫. হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ উৎপাদন: পরাগরেণু বা পরাগধানী কালচার করে হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ এবং তা থেকে হোমোজাইগাস ডিপ্লয়েড লাইন তৈরি করা যায়, যা উন্নত ফসল উদ্ভাবনে সহায়ক।
৬. ভ্রূণ উদ্ধার (Embryo Rescue): সংকরীকরণে অনেক সময় অপূর্ণাঙ্গ বা বিনষ্টপ্রায় ভ্রূণকে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বাঁচিয়ে নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করা যায়।অতএব, মানসম্পন্ন ফসলের চারা দ্রুত উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে চিত্র-Y প্রযুক্তিটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও