ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
গ্যাসকো একটি বিদেশি গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানি। কোম্পানিতে মি. জিয়াং ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি কর্মীদের লিখিত ও মৌখিক নির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্বোধ্য ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করেন। ফলে কর্মীদের বোঝা যেমন কষ্টকর তেমনি দ্রুততার সাথে তার নির্দেশ পালন করাও দূবৃহ হয়ে উঠেছে। এতে করে প্রতিষ্ঠানটিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- ক)(1)
যোগাযোগ কী?
- খ)(2)
কার্যবিভাজন কেন প্রয়োজন?
- গ)(3)
মি. জিয়াং যোগাযোগের কোন নীতিটি উপেক্ষা করেছেন? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
গ্যাসকো কোম্পানির বিশৃঙ্খলা দূর করতে তোমার পরামর্শ প্রদান করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে কোনো তথ্য, সংবাদ, ভাব বা মতামতের পারস্পরিক বিনিময়কে যোগাযোগ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজকে প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে যোগ্য কর্মী বা বিভাগের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করাই হলো কার্যবিভাজন।
কার্যবিভাজনের ফলে একই কাজ বারবার করার মাধ্যমে কর্মীদের বিশেষায়ন বা বিশেষ দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এটি কর্মদক্ষতা বাড়ায়, ভুলত্রুটি হ্রাস করে এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উৎপাদনশীলতা ও কাজের গতি ত্বরান্বিত করে। তাই প্রতিষ্ঠানে কার্যবিভাজন প্রয়োজন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. জিয়াং যোগাযোগের 'সরলতা ও স্পষ্টতার নীতি' বা 'বোধগম্যতার নীতি' উপেক্ষা করেছেন।
যোগাযোগকে ফলপ্রসূ ও অর্থবহ করতে হলে প্রেরিত বার্তা সহজ, সরল, প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপটে প্রচলিত ও প্রাপকের কাছে বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করতে হয়। বার্তা যদি প্রাপক সহজে বুঝতে না পারে, তবে তথ্যের বিকৃতি ঘটে এবং কার্যকর যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিদেশি গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানি 'গ্যাসকো'-র নতুন ব্যবস্থাপক মি. জিয়াং কর্মীদের লিখিত ও মৌখিক নির্দেশনা প্রদানে দুর্বোধ্য ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করেন। ফলে কর্মীদের পক্ষে তা বোঝা কষ্টকর হয়ে পড়ে এবং নির্দেশ পালনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। প্রাপকের বোধগম্যতার দিকে খেয়াল না রেখে এমন জটিল ভাষা প্রয়োগ করার মাধ্যমে মি. জিয়াং যোগাযোগের সরলতা ও স্পষ্টতার নীতি স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্যাসকো কোম্পানির বিশৃঙ্খলা দূর করতে সহজ, প্রাঞ্জল ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই একমাত্র সমাধান। এ লক্ষ্যে নিম্নে কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রদান করা হলো:
১. সহজ ও বোধগম্য ভাষা ব্যবহার: ব্যবস্থাপক মি. জিয়াং-কে দুর্বোধ্য ইংরেজি শব্দের পরিবর্তে কর্মীদের সুবিধার্থে সহজ ও স্পষ্ট ইংরেজি অথবা স্থানীয় ভাষা (বাংলা) ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে লিখিত নির্দেশনার ক্ষেত্রে অনুবাদের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
২. যোগাযোগের দ্বিমুখী প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ: নির্দেশনা প্রদানের পর কর্মীরা তা সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য কার্যকর প্রতিউত্তর (Feedback) গ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না।
৩. কর্মীদের ভাষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ: কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজের উপযোগী কার্যোপযোগী ভাষা শেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৪. দ্বি-ভাষী সমন্বয়ক নিয়োগ: বিদেশি ব্যবস্থাপক ও স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির জন্য একজন মধ্যবর্তী সমন্বয়কারী বা দোভাষী নিয়োগ করা যেতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্যাসকো কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের বাধা দূর করে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও