পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ঔপনিবেশিক শাসন ও নির্যাতনের যাতাকলে নিষ্পেষিত 'M' রাষ্ট্রের জনগণ দীর্ঘদিন যাবৎ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে চলেছে। গণআন্দোলনে বাধ্য হয়ে শাসকগোষ্ঠী একটি নতুন আইন প্রণয়ন করে। রাষ্ট্রকে দুভাগে ভাগ করে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে দেশ ত্যাগ করে।
- ক)(1)
মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার সদস্য সংখ্যা কতজন?
- খ)(2)
বঙ্গভঙ্গ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো আইনের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৬ সালের ব্রিটিশ সরকারের প্রেরিত মন্ত্রিমিশন (Cabinet Mission) পরিকল্পনার সদস্য সংখ্যা ছিল ৩ জন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক তৎকালীন বিশাল আয়তনের বাংলা প্রেসিডেন্সিকে প্রশাসনিক সুবিধার যুক্তিতে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি পৃথক প্রদেশ গঠন করার ঐতিহাসিক ঘটনাকে বঙ্গভঙ্গ বলা হয়। তবে এ বিভক্তির পেছনে ব্রিটিশদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চেতনা ও জাতীয়তাবাদী ঐক্যকে নস্যাৎ করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act, 1947)-এর সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
দীর্ঘ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণ স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের জন্য তীব্র আন্দোলন পরিচালনা করে। সেই আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ভারত ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই 'ভারত স্বাধীনতা আইন' পাস হয়। এ আইনের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে অখণ্ড ভারতকে বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক ও স্বাধীন ডোমিনিয়নের সৃষ্টি করা হয় এবং ব্রিটিশরা তাদের শাসন গুটিয়ে নেয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ঔপনিবেশিক নির্যাতনের শিকার 'M' রাষ্ট্রের জনগণ স্বাধীনতার জন্য তীব্র আন্দোলন করে এবং বাধ্য হয়ে শাসকগোষ্ঠী একটি নতুন আইন প্রণয়ন করে রাষ্ট্রটিকে বিভক্ত করে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে দেশ ত্যাগ করে। সুতরাং, উদ্দীপকের এই ঘটনাটি সরাসরি ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনটি হলো ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন', যা ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী দলিল। এই আইনের গুরুত্ব অপরিসীম:
১. ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান: ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দুই শত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও পরাধীনতার চূড়ান্ত অবসান ঘটে।
২. দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম: এই আইনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত নামে দুটি পৃথক ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে।
৩. সার্বভৌম ক্ষমতা হস্তান্তর: আইনটি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভারতবিষয়ক কর্তৃত্ব রহিত হয় এবং উভয় রাষ্ট্রের গণপরিষদের ওপর নিজ নিজ দেশের সংবিধান রচনার সার্বভৌম ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়।
৪. দেশীয় রাজ্যগুলোর স্বাধীনতা: ব্রিটিশদের সাথে ভারতের তৎকালীন দেশীয় রাজ্যগুলোর চুক্তি বাতিল হয় এবং তারা ভারত বা পাকিস্তান যেকোনো রাষ্ট্রে যোগদান কিংবা স্বাধীন থাকার অধিকার লাভ করে।
৫. বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি রচনা: এ আইনের ভিত্তিতেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় এবং পূর্ববাংলা পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীকালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যের বিরুদ্ধেই দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।অতএব, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছিল এবং স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের পথ উন্মোচন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও