যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
তথ্য-১: আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখে মাঝিরা দ্রুত সমুদ্রতীরে ফিরে এলেন।তথ্য-২: রাস্তায় লালবাতি জ্বলে ওঠায় ড্রাইভার পাড়ি থামালেন এবং সবুজ বাতি জ্বলে উঠায় পুনরায় গাড়ি চালানো শুরু করলেন।

- ক)(1)
প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা কী?
- খ)(2)
সত্যতা ও বৈধতা কি অভিন্ন? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
ছক-১ এর চিহ্নগুলো যুক্তিবিদ্যায় ব্যবহার করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তথ্য-১ ও তথ্য-২ দ্বারা তোমার পাঠ্যবইয়ে যে দুটি বিষয়কে। নির্দেশ করে তাদের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে যুক্তিবিদ্যায় যুক্তি ও যুক্তি-সম্পর্কিত বিষয়াবলিকে কৃত্রিম ও সংক্ষিপ্ত রূপ দিতে বিভিন্ন প্রতীকের ব্যাপক ব্যবহার করা হয়, তাকে প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, সত্যতা ও বৈধতা এক বা অভিন্ন নয়।
সত্যতা হলো কোনো যুক্তিপ্রস্তাব বা বচনের গুণ, যা বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ কি না তা নির্দেশ করে। কোনো উক্তি বাস্তবসম্মত হলে তা সত্য, অন্যথায় মিথ্যা হয়। পক্ষান্তরে, বৈধতা হলো একটি যুক্তির সার্বিক কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য। আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত যুক্তিবিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী সঠিকভাবে নিঃসৃত হলে যুক্তিটি বৈধ হয়, অন্যথায় অবৈধ হয়। সুতরাং, সত্যতা যুক্তিবাক্যের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত, আর বৈধতা যুক্তির আকার বা কাঠামোর সাথে সম্পর্কিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছক-১ এ প্রদর্শিত চিহ্নগুলো হলো প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার মৌলিক যৌক্তিক যোজক বা প্রতীক (যেমন: ডট বা বিন্দু [·], প্রাকল্পিক চিহ্ন [⊃], বৈকল্পিক চিহ্ন [∨], নিষেধক চিহ্ন [~], এবং সমমান চিহ্ন [≡])। যুক্তিবিদ্যায় এই প্রতীকগুলো ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ভাষার জটিলতা ও দ্ব্যর্থকতা দূরীকরণ: সাধারণ প্রাকৃতিক ভাষায় শব্দ ও বাক্যের নানাবিধ অর্থ থাকে, যা যুক্তির বিচারকে বিভ্রান্তিকর করে তোলে। কৃত্রিম প্রতীকের ব্যবহারের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অর্থ বজায় রাখা যায়।
২. যুক্তির আকার স্পষ্টীকরণ: প্রতীকের সাহায্যে বচনের মূল কাঠামোটি সরাসরি ও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়, যা যুক্তির বৈধতা বা অবৈধতা বিচারে সহায়ক।
৩. শ্রম ও সময় সাশ্রয়: বড় ও জটিল যুক্তিগুলোকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সরল আকারে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।
৪. নির্ভুল বিচার ও যান্ত্রিকীকরণ: গাণিতিক পদ্ধতির মতো নিয়মমাফিক সত্যক সারণি কিংবা অনুমানবিধির সাহায্যে যুক্তির সত্যমূল্য দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়।সুতরাং, চিন্তাকে সংক্ষিপ্ত, সুনির্দিষ্ট এবং সহজবোধ্য করার স্বার্থেই যুক্তিবিদ্যায় এসব প্রতীক ব্যবহার করা অপরিহার্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য-১ এ 'আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখে মাঝিরা দ্রুত সমুদ্রতীরে ফিরে এলেন' ঘটনাটি প্রাকৃতিক চিহ্ন (Natural Sign)-কে নির্দেশ করে এবং তথ্য-২ এ 'ট্রাফিক সিগন্যালের লাল ও সবুজ বাতি' ঘটনাটি কৃত্রিম বা প্রচলিত সংকেত/চিহ্ন (Conventional/Artificial Sign)-কে নির্দেশ করে।
এদের মধ্যকার মূল পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উৎপত্তির ভিত্তি: প্রাকৃতিক চিহ্ন প্রকৃতিপ্রদত্ত কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত (যেমন- মেঘের সাথে বৃষ্টির সম্পর্ক)। অপরদিকে, কৃত্রিম চিহ্ন হলো মানুষের সচেতন সিদ্ধান্ত, সামাজিক প্রথা বা চুক্তির ফসল (যেমন- ট্রাফিক বাতির রঙ)।
২. পরিবর্তনশীলতা: প্রাকৃতিক চিহ্ন অপরিবর্তনশীল ও সার্বজনীন। পৃথিবীর সব স্থানেই ঘন কালো মেঘ ঝড়ের পূর্বাভাস দেয়। পক্ষান্তরে, কৃত্রিম চিহ্ন স্থান-কাল-পাত্রভেদে পরিবর্তনশীল; সমাজ চাইলে লাল বাতির অর্থ পরিবর্তন করতে পারে।
৩. ইচ্ছাধীনতা: প্রাকৃতিক চিহ্ন মানুষের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়। কিন্তু কৃত্রিম চিহ্ন মানুষের প্রয়োজন ও ইচ্ছানুযায়ী তৈরি ও পরিবর্তিত হয়।
৪. ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা: প্রাকৃতিক চিহ্নের অর্থ বুঝতে প্রকৃতির নিয়ম ও কার্যকারণ জ্ঞান প্রয়োজন। অন্যদিকে, কৃত্রিম চিহ্নের অর্থ বুঝতে সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম জানার প্রয়োজন হয়।সুতরাং, তথ্য-১ ও তথ্য-২ যথাক্রমে যুক্তিবিদ্যায় আলোচিত প্রাকৃতিক চিহ্ন ও কৃত্রিম বা প্রথাগত প্রতীকের ধারণাকে তুলে ধরে, যাদের মধ্যকার পার্থক্য উপরিউক্ত বিষয়গুলোতে স্পষ্ট।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও