বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
অনুজের হস্ত ধরিয়া নিকটে বসাইয়া হাসান বলিতে লাগিলেন, ভাই স্থির হও। আমি আমার বিষ দাতাকে চিনি। যাহা হউক ভাই, তাহার নাম আমি কখনোই মুখে আনিব না। তাহার প্রতি আমার রাগ, হিংসা কিছুই নাই। ঈশ্বরের নামে শপথ করিয়া বলিতেছি, আমার বিষদাতার মুক্তির জন্য ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করিব।
- ক)(1)
'বান' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'প্রতিদান' কবিতায় কবির কণ্ঠে কোন আকাঙ্খা ব্যক্ত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে কী? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের বিষদাতা 'প্রতিদান' কবিতার নিষ্ঠুর মানুষদের প্রতিনিধি ।" - মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বান' শব্দের অর্থ বন্যা বা প্লাবন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'প্রতিদান' কবিতায় কবির কণ্ঠে অনিষ্টকারীর প্রতিও কল্যাণকামনা ও ক্ষমার মাধ্যমে হিংসা-দ্বেষমুক্ত এক ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী গড়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে।
কবি জসীমউদ্দীন প্রচলিত প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে ভালোবাসার মাধ্যমে শত্রুকে আপন করার বার্তা দিয়েছেন। যে তাঁর ঘর ভেঙে দেয়, কবি তার জন্য ঘর বাঁধেন; যে তাঁকে আঘাত করে, তিনি তাকে পরম স্নেহে আপন করে নেন। আত্মস্বার্থ ও প্রতিশোধস্পৃহা ত্যাগ করে অপরের মঙ্গলে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার চিরন্তন মানবিক আকাঙ্ক্ষাই এখানে প্রকাশিত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিষের বদলে ভালোবাসা ও ক্ষমার যে দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়, তার সাথে 'প্রতিদান' কবিতার মূল চেতনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি আঘাতের বিপরীতে আঘাত না করে প্রেম ও ক্ষমার আদর্শ তুলে ধরেছেন। কবি বলেন— "যে মোরে করিল পথের বিবাগী / পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি" কিংবা যে কবিকে বিষ দেয়, কবি তাকে বুকভরা ভালোবাসার ফুল উপহার দেন। অনিষ্টকারীর প্রতি কোনো আক্রোশ না রেখে তার কল্যাণ কামনাই কবির ব্রত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হযরত হাসান (রা.) তাঁর বিষদাতাকে চেনা সত্ত্বেও তার নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। বিষদাতার প্রতি তাঁর কোনো রাগ বা হিংসা নেই, বরং তিনি ঈশ্বরের কাছে তার মুক্তির জন্য প্রার্থনা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শত্রুর চরম ক্ষতিসাধনের মুখেও এমন অসীম ক্ষমাশীলতা এবং অনিষ্টকারীর মুক্তির প্রার্থনা 'প্রতিদান' কবিতার পরম ক্ষমার বাণীর সাথেই হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের বিষদাতা 'প্রতিদান' কবিতার নিষ্ঠুর মানুষদের প্রতিনিধি।" — মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
'প্রতিদান' কবিতায় এমন এক শ্রেণির নিষ্ঠুর ও স্বার্থপর মানুষের ইঙ্গিত রয়েছে, যারা নিঃস্বার্থ মানুষকে আঘাত করে, অন্যের সুখ-শান্তি নষ্ট করে এবং বিষাক্ত আচরণে হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করে। কবি তাদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন— "যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ / আমি দেই তারে বুক-ভরা গান।" অর্থাৎ, সমাজে একদল মানুষ রয়েছে যারা অন্যের ক্ষতি করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করে না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষদাতা তেমনি এক চরম নিষ্ঠুরতার প্রতীক। সে কোনো কারণ ছাড়াই বা অসৎ উদ্দেশ্যে হাসান (রা.)-কে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে। এই বিষদাতা সমাজের সেইসব অকৃতজ্ঞ ও বিবেকহীন মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা ভালোবাসার প্রতিদানে ঘৃণা ও আঘাত উপহার দেয়। কবিতায় যেমন নিষ্ঠুর ব্যক্তিরা কবির ঘর ভেঙে দেয় কিংবা কাঁটার আঘাত হানে, উদ্দীপকের বিষদাতাও একইভাবে প্রাণঘাতী বিষ প্রয়োগ করে চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছে।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের বিষদাতা এবং 'প্রতিদান' কবিতার অনিষ্টকারী মানুষের আচরণ ও মানসিকতা একই সূত্রে গাঁথা। তাই বিষদাতাকে কবিতার নিষ্ঠুর মানুষদের সার্থক প্রতিনিধি বলা সম্পূর্ণ সংগত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও