অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব হারুন যুব উন্নয়ন সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে একটি মৎস্য খামার করলেন। মৎস্য অফিসারের সহায়তায় উন্নত জাতের পোনা ও ডিম উৎপাদন করলেন। নিয়মিত মাছের খাদ্য ও যত্ন দিয়ে প্রচুর মাছ উৎপাদন করলেন। এতে তার প্রচুর মুনাফা হলো। তার অনুসরণে গ্রামের অনেক বেকার যুবক মাছ চাষ ও হাঁস-মুরগি পালনে উৎসাহিত হলো।
- ক)(1)
নিট অভিবাসন কী?
- খ)(2)
নারী শিক্ষা কীভাবে জনসংখ্যা হ্রাসে ভূমিকা রাখে?
- গ)(3)
জনাব হারুনের মৎস্য খামারটি কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব হারুন ও তার অনুসারীদের ফার্মগুলোকে কী স্ব- কর্মসংস্থান বলা যেতে পারে? আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা বছরে একটি দেশে মোট অভিবাসী (বহিরাগমনকারী) ও মোট প্রবাসীর (বহির্গমনকারী) সংখ্যার মধ্যকার পার্থক্যকে নিট অভিবাসন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নারী শিক্ষা জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। শিক্ষিত নারীরা স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অধিক সচেতন হন। শিক্ষা নারীদের মধ্যে বাল্যবিয়ে রোধ করে এবং বিবাহের বয়স বৃদ্ধি করে, যা প্রজননকালকে সংকুচিত করে। এছাড়া শিক্ষিত নারীরা কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার ফলে অধিক সন্তান গ্রহণের পরিবর্তে সন্তানের গুণগত লালন-পালনের দিকে মনোযোগী হন। ফলে সামগ্রিকভাবে জন্মহার তথা জনসংখ্যা হ্রাস পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব হারুনের মৎস্য খামারটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বহুবিধভাবে ভূমিকা রাখছে।
প্রথমত, তিনি প্রশিক্ষণ ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পোনা ও ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করেছেন, যা প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে। এর ফলে পুষ্টিহীনতা দূর হয় এবং জনগণের কর্মক্ষমতা বাড়ে। দ্বিতীয়ত, মৎস্য খামার পরিচালনার মাধ্যমে তিনি নিজে মুনাফা অর্জন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং জাতীয় আয়ে অবদান রাখছেন। তৃতীয়ত, তাকে দেখে উৎসাহিত হয়ে গ্রামের অন্যান্য বেকার যুবকরাও মাছ চাষ ও হাঁস-মুরগি পালনে এগিয়ে আসছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং বেকারত্ব ও দারিদ্র্য হ্রাস করছে। এভাবে জনাব হারুনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব হারুন ও তার অনুসারীদের ফার্মগুলোকে নিশ্চিতভাবেই স্ব-কর্মসংস্থান বলা যেতে পারে।
নিজের উদ্যোগ, মেধা, শ্রম এবং নিজস্ব বা সংগৃহীত সীমিত মূলধনের সাহায্যে কোনো স্বাধীন পেশা বা অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত থেকে জীবিকা নির্বাহ করাকে স্ব-কর্মসংস্থান বলে। স্ব-কর্মসংস্থানে ব্যক্তি অন্যের অধীনে চাকরি না করে নিজেই নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকি গ্রহণ করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব হারুন যুব উন্নয়ন সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মৎস্য অফিসারের পরামর্শে উন্নত জাতের পোনা ও ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে মৎস্য খামার গড়ে তুলেছেন। তিনি অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজ উদ্যোগে খামার পরিচালনা করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করছেন। একইভাবে তার সাফল্য দেখে গ্রামের অন্যান্য বেকার যুবকরাও অলস বসে না থেকে মাছ চাষ ও হাঁস-মুরগি পালনের নিজস্ব ফার্ম গড়ে তুলছে। এসব কর্মকাণ্ডে তারা নিজেরাই উদ্যোক্তা এবং স্বাবলম্বী।
যেহেতু তারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজস্ব উদ্যোগে আয় ও জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থা করেছেন, তাই তাদের এই ফার্ম বা উদ্যোগসমূহ পুরোপুরি স্ব-কর্মসংস্থানের অন্তর্ভুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও