জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
Liver wort কাকে বলে?
- খ)(2)
Tissue culture বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'K' উদ্ভিদের অযৌন জনন চিত্রসহ লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের জীব দুটির মধ্যে কোনটি উন্নত—বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হেপাটিকপসিডা (Hepaticopsida) শ্রেণিভুক্ত যে সকল ব্রায়োফাইটের থ্যালাসের গঠন দেখতে মানবদেহের যকৃতের (liver) খণ্ডকের মতো, তাদেরকে লিভারওয়ার্ট (Liverwort) বলা হয় (যেমন—Riccia)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
টিস্যু কালচার (Tissue culture) হলো উদ্ভিদের যেকোনো বিভাজনক্ষম অঙ্গ বা টিস্যু (যেমন—শীর্ষমুকুল, পাতা, ভ্রূণ ইত্যাদি) থেকে জীবাণুমুক্ত নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম পুষ্টি মাধ্যমে অসংখক পূর্ণাঙ্গ চারা উৎপাদন করার একটি জৈবপ্রযুক্তিগত পদ্ধতি।
উদ্ভিদকোষের টোটিপোটেন্সি (totipotency) বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এ পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত আলো, তাপমাত্রা ও হরমোনের উপস্থিতিতে ক্যালাস তৈরি ও পরবর্তীতে চারা উৎপাদন করা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'K' হলো সূত্রাকার সবুজ শৈবাল ইউলোথ্রিক্স (Ulothrix)।
ইউলোথ্রিক্সের অযৌন জনন প্রক্রিয়া:
ইউলোথ্রিক্স প্রধানত জুস্পোর বা চলরেণু সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। এ ছাড়া প্রতিকূল পরিবেশে অ্যাপ্লানোস্পোর, হিপনোস্পোর এবং পামেলা দশার মাধ্যমেও এটি বংশবৃদ্ধি করে।
১. জুস্পোর সৃষ্টি: হোল্ডফাস্ট ব্যতীত ফিলামেন্টের যেকোনো সাধারণ কোষ জুস্পোরানজিয়াম হিসেবে কাজ করে। জুস্পোরানজিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট মাইটোসিস বা ক্লিভেজ প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ১ থেকে ৩২টি অপত্য প্রোটোপ্লাস্টে পরিণত হয়। প্রতিটি খণ্ড নাশপাতি আকৃতির চতুঃফ্লাজেলাযুক্ত (৪টি ফ্ল্যাজেলা বিশিষ্ট) জুস্পোর গঠন করে। অনুকূল পরিবেশে জুস্পোরানজিয়ামের প্রাচীরে ছিদ্র সৃষ্টি হয়ে জুস্পোরগুলো পানিতে মুক্ত হয়। এগুলো কিছুক্ষণ সাঁতার কাটার পর কোনো অবলম্বনের সাথে যুক্ত হয়ে ফ্ল্যাজেলা ত্যাগ করে এবং বিভাজিত হয়ে নতুন ইউলোথ্রিক্স সূত্র গঠন করে।
২. অন্যান্য স্পোর: শুষ্ক বা প্রতিকূল পরিবেশে ফ্লাজেলাবিহীন নিশ্চল অ্যাপ্লানোস্পোর (Aplanospore) অথবা পুরু প্রাচীরযুক্ত হিপনোস্পোর (Hypnospore) গঠিত হয়। মাঝে মাঝে প্রতিকূলতায় জুস্পোরানজিয়ামের প্রাচীর বিগলিত হয়ে কোষগুলো মিউসিলেজের মধ্যে আবদ্ধ থেকে পামেলা দশা সৃষ্টি করে।[চিত্র নির্দেশ: এখানে জুস্পোরানজিয়াম থেকে চতুঃফ্লাজেলাযুক্ত জুস্পোর নির্গমন এবং নতুন সূত্রক গঠনের ধাপসমূহের একটি চিহ্নিত চিত্র আঁকতে হবে।]
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত চিত্র 'K' হলো নিম্নশ্রেণির সমাঙ্গদেহী শৈবাল (Ulothrix) এবং চিত্র 'L' হলো টেরিডোফাইটা পর্বের ফার্নের প্রোথ্যালাস (Pteris prothallus)। জীব দুটির মধ্যে চিত্র 'L' অর্থাৎ ফার্ন তুলনামূলকভাবে অনেক উন্নত।
নিম্নে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উন্নত বৈশিষ্ট্যের যথার্থতা তুলে ধরা হলো:
১. উদ্ভিদদেহের গঠন: 'K' (Ulothrix) একটি অতি সরল, একক সূত্রাকার এবং সমাঙ্গদেহী (Thalloid) প্রকৃতির জীব; এদের মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। অন্যদিকে 'L' (ফার্ন) হলো জটিল ট্র্যাকিওফাইট উদ্ভিদ, যার প্রধান দেহটি সুগঠিত স্পোরোফাইট এবং প্রকৃত মূল, কাণ্ড ও পাতায় (ফ্রন্ড) বিভক্ত।
২. পরিবহন তন্ত্র (Vascular bundle): ইউলোথ্রিক্সে কোনো ধরনের পরিবহন কলা বা জাইলেম-ফ্লোয়েম নেই। বিপরীতে, ফার্ন হলো আদি সংবহনতান্ত্রিক বা ভাস্কুলার ক্রিপ্টোগ্যামস (Vascular Cryptogams), যাদের সুগঠিত জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু বিদ্যমান।
৩. প্রধান জনু: ইউলোথ্রিক্সের প্রধান উদ্ভিদদেহ হ্যাপ্লয়েড বা গ্যামিটোফাইট। ফার্নের প্রধান উদ্ভিদদেহ ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট, যা অত্যন্ত উন্নত এবং দীর্ঘস্থায়ী। চিত্র 'L'-এ প্রদর্শিত প্রোথ্যালাসটি এর স্বল্পস্থায়ী স্বতন্ত্র গ্যামিটোফাইট দশা মাত্র।
৪. জননাঙ্গের জটিলতা: ইউলোথ্রিক্সের জননাঙ্গ এককোষী এবং বন্ধ্যা আবরণীবিহীন। ফার্নের পুংজননাঙ্গ (অ্যানথেরিডিয়াম) ও স্ত্রীজননাঙ্গ (আর্কিগোনিয়াম) বহুকোষী এবং বন্ধ্যা কোষস্তর দ্বারা আবৃত ও সুগঠিত।
৫. ভ্রূণ সৃষ্টি: ইউলোথ্রিক্সে জাইগোট সরাসরি বিভাজিত হয়, কোনো ভ্রূণ (Embryo) গঠিত হয় না। কিন্তু ফার্নে নিষেক পরবর্তীকালে বহুকোষী ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ বিচার করলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, গঠনগত জটিলতা, পরিবহন তন্ত্রের উপস্থিতি এবং উন্নত জনন প্রক্রিয়ার কারণে 'K'-এর তুলনায় 'L' অধিক উন্নত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও