অর্থনীতি ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মৌসুমী শারমিন বেতন পেয়ে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে ক ব্যাংকে একটি হিসাব খুললন। ব্যাংকের ম্যানেজার তাকে বললেন যে, খ ব্যাংকের নির্দেশে তাদেরকে আমানতের ১০% অর্থ রিজার্ভ হিসেবে জমা রাখতে হয়। অবশিষ্ট টাকা বহুগুণ ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে তারা ঋণ দিতে পারে। তবে খ ব্যাংক বিভিন্ন হাতিয়ার ব্যবহার করে ক ব্যাংকের ঋণদান প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
- ক)(1)
মুদ্রা কাকে বলে?
- খ)(2)
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয় কেন।
- গ)(3)
উদ্দীপকের খ যে ধরনের ব্যাংক তার তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ক ব্যাংকে মৌসুমী শারমিনের জমাকৃত আমানতের বহু গুন ঋণ সৃষ্টি প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যা সরকারের দ্বারা প্রবর্তিত, বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্য এবং মূল্যের পরিমাপক ও সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে কাজ করে, তাকে মুদ্রা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়লে এবং অন্য কোনো উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে সর্বশেষ ভরসা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন নিকাশ ঘরের মাধ্যমে অথবা বিল বাট্টাকরণ ও সরাসরি ঋণ দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সংকট থেকে উদ্ধার করে। এই কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে 'ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল' (Lender of the last resort) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'খ ব্যাংক' হলো দেশের 'কেন্দ্রীয় ব্যাংক', কারণ এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের রিজার্ভের হার নির্ধারণ করে এবং ঋণদান প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. নোট ও মুদ্রা প্রচলনের একক অধিকার: কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলন করে থাকে।
২. সরকারের ব্যাংক ও উপদেষ্টা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের আর্থিক প্রতিনিধি, ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে এবং সরকারের তহবিল সংরক্ষণ ও পরিচালনা করে।
৩. ঋণ নিয়ন্ত্রণকারী: দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার, জমার অনুপাত পরিবর্তন, খোলা বাজার কার্যক্রম প্রভৃতি বিভিন্ন হাতিয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা ও দেশের ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাণিজ্যিক ব্যাংক 'ক' প্রাথমিক আমানতের ভিত্তিতে বহুগুণ ঋণ সৃষ্টি করে। নিচে ঋণ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করা হলো:
এখানে,
প্রাথমিক আমানত (A) = ১০,০০০ টাকা
আইনগত জমার অনুপাত (RR) = ১০% = ০.১বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকের জমাকৃত পুরো অর্থ রিজার্ভ রাখে না। 'ক' ব্যাংক মৌসুমী শারমিনের ১০,০০০ টাকার ১০% অর্থাৎ ১,০০০ টাকা খ ব্যাংকের (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) নির্দেশ অনুযায়ী নগদ রিজার্ভ হিসেবে সংরক্ষণ করবে। অবশিষ্ট (১০,০০০ - ১,০০০) = ৯,০০০ টাকা অন্য কোনো ঋণগ্রহীতাকে ঋণ হিসেবে প্রদান করবে।
ব্যাংক ঋণগ্রহীতাকে সরাসরি নগদ টাকা না দিয়ে তার নামে একটি হিসাব খুলে ঋণ মঞ্জুর করে। এই ৯,০০০ টাকা পুনরায় ব্যাংক ব্যবস্থায় নতুন আমানত হিসেবে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ব্যাংক আবার এই ৯,০০০ টাকার ১০% (৯০০ টাকা) রিজার্ভ রেখে বাকি ৮,১০০ টাকা ঋণ হিসেবে প্রদান করবে। এই প্রক্রিয়াটি ক্রমাগত চলতেই থাকে।
বহুগুণ ঋণ সৃষ্টির সূত্রানুসারে মোট ঋণ বা সৃষ্ট আমানতের পরিমাণ:
মোট আমানত = প্রাথমিক আমানত × (১ / নগদ জমার অনুপাত)
= ১০,০০০ × (১ / ০.১)
= ১০,০০০ × ১০
= ১,০০,০০০ টাকা।এবং মোট সৃষ্ট ঋণের পরিমাণ = মোট আমানত - প্রাথমিক আমানত
= ১,০০,০০০ - ১০,০০০ = ৯০,০০০ টাকা।অতএব, ক ব্যাংকে মৌসুমী শারমিনের প্রাথমিক ১০,০০০ টাকা জমার বিপরীতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ১,০০,০০০ টাকার আমানত এবং ৯০,০০০ টাকার বহুগুণ ঋণ সৃষ্টি সম্ভব হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও