সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
"মানুষের জীবন এখন আর আগের মতো নেই। আগে চিঠিপত্র আসতে দিনের পর দিন লেগে যেত। আর এখন যেকোনো চিঠিপত্র পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে পাঠিয়ে দেয়া যায়। ঘরে বসেই পৃথিবীর যাবতীয় খবরাখবর পাওয়া যায়।” কথাগুলো বলে দবির মিয়া একটু থামেন। এরপর বলেন, "এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে। এছাড়া কলকারখানা স্থাপনের ফলে মানুষের পেশায়। এসেছে বৈচিত্র্য, জীবনযাপন প্রণালিতে এসেছে পরিবর্তন।"
- ক)(1)
প্রগতি কাকে বলে?
- খ)(2)
সামাজিক আচরণের রূপান্তর বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের কোন কারণের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক পরিবর্তন একটি বিশেষ সমাজ ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাঙ্ক্ষিত বা ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন, যা মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও মঙ্গলের দিকে সমাজকে পরিচালিত করে, তাকে প্রগতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক আচরণের রূপান্তর বলতে সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ, রীতিনীতি, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক দলসমূহের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, আচার-আচরণ ও জীবনপ্রণালিতে সংঘটিত পরিবর্তনকে বোঝায়। এটি বাহ্যিক পরিবেশ, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে মানুষের চিন্তাধারা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে আসা গুণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের 'প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক কারণ' এবং 'শিল্পায়ন'-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং শিল্পায়ন। নতুন প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগের ধরন, চিন্তা-চেতনা এবং উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে আমূল পরিবর্তন করে দেয়।
উদ্দীপকে দবির মিয়ার বক্তব্যে দেখা যায়, পূর্বে চিঠিপত্র পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগত, অথচ বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আজ মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে তথ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে এবং ঘরে বসেই বিশ্বজগতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি কলকারখানা স্থাপনের ফলে মানুষের ঐতিহ্যবাহী পেশায় পরিবর্তন এসে পেশাগত বৈচিত্র্য তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির আধুনিক উদ্ভাবন ও শিল্পায়ন মানুষের সময় বাঁচিয়ে দিয়েছে এবং কর্মসংস্থান ও যোগাযোগের ধারা বদলে দিয়েছে। সুতরাং উদ্দীপকে মূলত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের প্রভাবকে সামাজিক পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক পরিবর্তন একটি বিশেষ সমাজ ব্যবস্থা তথা 'আধুনিক শিল্প সমাজ' বা 'তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সমাজ'কে নির্দেশ করে—মন্তব্যটি যৌক্তিক।
শিল্প সমাজ ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সমাজের মূল বৈশিষ্ট্য হলো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার, বিশ্বব্যাপী তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতি এবং পেশাগত বৈচিত্র্য। এ ধরনের সমাজে কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ কাঠামোর পরিবর্তে শিল্পভিত্তিক শহুরে সংস্কৃতি প্রাধান্য পায় এবং জীবনযাত্রা সহজ ও গতিশীল হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে বিজ্ঞানের অগ্রগতির মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা, ঘরে বসে পৃথিবীর যাবতীয় তথ্য আহরণ এবং কলকারখানা স্থাপনের ফলে নতুন নতুন পেশা ও জীবনপ্রণালির রূপান্তরের কথা বলা হয়েছে। এই উপাদানগুলো সনাতন বা প্রাক-শিল্প সমাজের লক্ষণ নয়; বরং এগুলো আধুনিক শিল্পোত্তর বা তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর সমাজের সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন। প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের গতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্বকে একটি বৈশ্বিক গ্রামে (Global Village) রূপান্তর করেছে, যা আধুনিক সমাজ কাঠামোর প্রধান স্তম্ভ।
সুতরাং, বিজ্ঞানের প্রভাব, দ্রুত যোগাযোগ এবং কারখানাকেন্দ্রিক জীবিকার পরিবর্তনের মাধ্যমে উদ্দীপকের চিত্রটি সুস্পষ্টভাবেই আধুনিক শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও