জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

আখে যেভাবে CO₂ থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়, কাঁঠাল গাছে সেভাবে হয় না। কিন্তু উভয় উদ্ভিদেই গ্লুকোজ থেকে CO₂ তৈরির প্রক্রিয়া একই। শেষোক্ত প্রক্রিয়ার একটি চক্রে মাইটো কন্ড্রিয়াতে চার অণু CO₂ তৈরি হয়।

  1. ক)

    প্রস্বেদন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রোটন অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট মতবাদকে কেন সক্রিয় মতবাদ বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যে উল্লেখিত চক্রটি চিত্রের সাহায্যে দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় স্থলজ উদ্ভিদ তার বায়বীয় অঙ্গের (প্রধানত পাতার) মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের করে দেয়, তাকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন (Transpiration) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রোটন-অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট মতবাদ পিটার মিচেলের কেমিওসমোটিক তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ মতবাদ অনুসারে, কোষঝিল্লিতে অবস্থিত প্রোটন পাম্প বিপাকীয় শক্তি বা ATP ব্যবহারের মাধ্যমে কোষের ভেতর থেকে H⁺ (প্রোটন) বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে কোষের বাইরে ও ভেতরে প্রোটনের একটি তড়িৎ-রাসায়নিক নতিমাত্রা (electrochemical potential gradient) ও প্রোটন মোটিভ বল সৃষ্টি হয়। এই বলের টানে H⁺ যখন পুনরায় বাহক প্রোটিনের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করে, তখন তার সাথে অ্যানায়নও ভেতরে প্রবেশ করে। যেহেতু এ প্রক্রিয়ায় সরাসরি বিপাকীয় শক্তি (ATP) খরচ হয়, তাই একে সক্রিয় পরিশোষণ মতবাদ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যে উল্লিখিত চক্রটি হলো শ্বসনের মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত 'ক্রেবস চক্র' (Krebs cycle বা TCA চক্র)। এক অণু গ্লুকোজ থেকে তৈরি দুই অণু অ্যাসিটাইল Co-A এ চক্রে দুইবার প্রবেশ করে মোট ৪ অণু CO₂ উৎপন্ন করে।

    নিচে চক্রটির প্রবাহচিত্র উপস্থাপন করা হলো:

    অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (4C)
    ↑
    [ম্যালিক অ্যাসিড ডিহাইড্রোজিনেজ / NAD⁺ → NADH+H⁺]
    ↑
    ম্যালিক অ্যাসিড (4C)
    ↑ [ফিউমারেজ]
    ফিউমারিক অ্যাসিড (4C)
    ↑ [সাকসিনিক ডিহাইড্রোজিনেজ / FAD → FADH₂]
    সাকসিনিক অ্যাসিড (4C)
    ↑ [সাকসিনাইল থায়োকাইনেজ / GDP+Pi → GTP]
    সাকসিনাইল Co-A (4C) + CO₂ (১ম কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ)
    ↑ [α-কিটোগ্লুটারেট ডিহাইড্রোজিনেজ / NAD⁺ → NADH+H⁺]
    α-কিটোগ্লুটারিক অ্যাসিড (5C) + CO₂ (২য় কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ)
    ↑ [আইসোসাইট্রেট ডিহাইড্রোজিনেজ / NAD⁺ → NADH+H⁺]
    আইসোসাইট্রিক অ্যাসিড (6C)
    ↑ [অ্যাকোনিটেজ]
    সিস-অ্যাকোনিটিক অ্যাসিড (6C)
    ↑ [অ্যাকোনিটেজ]
    সাইট্রিক অ্যাসিড (6C) ← [সাইট্রেট সিন্থেজ]
    ↑
    অ্যাসিটাইল Co-A (2C) + অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (4C)

    (উল্লেখ্য, একটি গ্লুকোজ অণু থেকে প্রাপ্ত দুটি অ্যাসিটাইল Co-A চক্রটিতে দুইবার আবর্তিত হয়ে মোট ৪ অণু CO₂, ৬ অণু NADH+H⁺, ২ অণু FADH₂ এবং ২ অণু GTP/ATP উৎপন্ন করে।)

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটি হলো: "আখে যেভাবে CO₂ থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়, কাঁঠাল গাছে সেভাবে হয় না।" বাক্যটি দ্বারা মূলত C₄ এবং C₃ উদ্ভিদের কার্বন বিজারণ তথা শর্করা তৈরির প্রক্রিয়ার ভিন্নতাকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উদ্ভিদের প্রকৃতি: আখ একটি C₄ উদ্ভিদ, পক্ষান্তরে কাঁঠাল একটি C₃ উদ্ভিদ।
    ২. প্রথম স্থায়ী পদার্থ: আখে CO₂ বিজারণের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (OAA)। কিন্তু কাঁঠাল গাছে CO₂ বিজারণের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৩-কার্বনবিশিষ্ট ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (3-PGA)।
    ৩. প্রাথমিক CO₂ গ্রাহক ও এনজাইম: আখে বায়ুমণ্ডলীয় CO₂-এর প্রাথমিক গ্রাহক ফসফোইনল পাইরুভিক অ্যাসিড (PEP) এবং এনজাইম হিসেবে কাজ করে PEP কার্বক্সিলেজ। অন্যদিকে কাঁঠালে প্রাথমিক গ্রাহক রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট (RuBP) এবং এনজাইম হিসেবে কাজ করে রুবিস্কো (RuBisCO)।
    ৪. পাতার অভ্যন্তরীণ গঠন: আখের পাতায় সুস্পষ্ট বান্ডল সিথ ও মেসোফিল কোষ সংবলিত ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz anatomy) বিদ্যমান এবং ক্লোরোপ্লাস্ট ডাইমরফিক প্রকৃতির। ফলে আখে C₄ ও C₃ উভয় চক্রের সমন্বয়ে গ্লুকোজ তৈরি হয়। কাঁঠালে কোনো ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি নেই এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কেবল মেসোফিল কোষের সাধারণ ক্লোরোপ্লাস্টে ক্যালভিন চক্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
    ৫. আলোক-শ্বসন (Photorespiration): কাঁঠাল গাছে অতিরিক্ত আলো ও অক্সিজেনের উপস্থিতিতে আলোক-শ্বসন ঘটে, যা সালোকসংশ্লেষণের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। কিন্তু আখে আলোক-শ্বসন প্রায় অনুপস্থিত, ফলে এর সালোকসংশ্লেষণের হার ও গ্লুকোজ উৎপাদনের দক্ষতা কাঁঠাল অপেক্ষা অনেক বেশি।

    সুতরাং, উল্লিখিত শারীরবৃত্তীয় ও কাঠামোগত পার্থক্যের কারণে আখে যেভাবে C₄ গতিপথে গ্লুকোজ সংশ্লেষিত হয়, কাঁঠাল গাছে সেভাবে না হয়ে C₃ গতিপথে সম্পন্ন হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন