ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • অংশীদারি ব্যবসায় • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

২০২২ সালের ১লা জানুয়ারি তারিখে জামাল, কামাল ও শাহেদ লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে অংশীদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। তিন জনের মূলধনের পরিমাণ সমান এবং মুনাফা ভোগের হারও সমানুপাতিক। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী শাহেদ শুধুমাত্র মূলধনের সমপরিমাণ দায় বহন করে। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে কামালের মৃত্যুর পর তার ১৫ বছরের কন্যা তমালিকাকে ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত করতে জামাল ও শাহেদ সম্মত, হয়। এক বছর পর প্রতিষ্ঠানের ৭৫,০০০ টাকা লোকসান হয়। কিন্তু তমালিকা কোনো দায় বহন করে না।

  1. ক)

    কর্মী অংশীদার কে?

    (1)
  2. খ)

    চুস্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের অংশীদারি সংগঠন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে তমালিকার দায় অস্বীকার করার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অংশীদার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করে শুধুমাত্র নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শ্রম নিয়োজিত রেখে সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করেন এবং মুনাফা পান, তাকে কর্মী অংশীদার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অংশীদারি কারবারের জন্ম, পরিচালনা, অংশীদারদের পারস্পরিক অধিকার ও দায়-দায়িত্ব সবকিছু চুক্তির ওপর নির্ভরশীল বলেই চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি বলা হয়।
    অংশীদারি আইন অনুযায়ী চুক্তি ছাড়া কোনো অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হতে পারে না। অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি কোনো পারিবারিক মর্যাদা বা উত্তরাধিকার নয়, বরং তাদের পারস্পরিক চুক্তি। চুক্তির মাধ্যমেই লাভ-লোকসান বণ্টন, মূলধনের পরিমাণ, ব্যবস্থাপনা এবং বিলোপসাধনের নিয়ম নির্ধারিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি সীমিত অংশীদারি সংগঠন।

    যে অংশীদারি ব্যবসায়ের অন্তত একজন অংশীদারের দায় চুক্তির শর্তানুযায়ী বা আইনগত কারণে তার বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণে সীমাবদ্ধ থাকে এবং অন্তত একজন অংশীদারের দায় অসীম থাকে, তাকে সীমিত অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

    উদ্দীপকে জামাল, কামাল ও শাহেদ লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে ব্যবসায় গঠন করেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী শাহেদ শুধুমাত্র মূলধনের সমপরিমাণ দায় বহন করবেন, অর্থাৎ তার দায় সীমিত। পক্ষান্তরে বাকি অংশীদারদের দায় অসীম।যেহেতু প্রতিষ্ঠানটিতে শাহেদের দায় মূলধনের অঙ্কে সীমিত রাখা হয়েছে, তাই এটি অংশীদারি আইনের দৃষ্টিতে একটি সীমিত অংশীদারি প্রতিষ্ঠান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে তমালিকা নাবালক হওয়ায় এবং আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো দায় তার ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর বর্তায় না বিধায় তার দায় অস্বীকার করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

    ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নাবালক ব্যক্তি অংশীদারি ব্যবসায়ের পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে পারে না। তবে সকল বিদ্যমান অংশীদারের সর্বসম্মত সম্মতিতে নাবালককে কেবল কারবারের সুবিধার্থে বা মুনাফার অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। আইনের নিয়মানুসারে, কারবারের কোনো ক্ষতির জন্য নাবালক অংশীদারের দায় কেবল ব্যবসায়ে তার অর্পিত মূলধন বা স্বার্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে; কোনোভাবেই তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি লোকসানের দায়ের জন্য দায়ী হবে না।

    উদ্দীপকে কামালের মৃত্যুর পর তার ১৫ বছর বয়সী কন্যা তমালিকাকে জামাল ও শাহেদের সম্মতিতে ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত করা হয়। যেহেতু তমালিকার বয়স ১৫ বছর, সে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নাবালক। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানে ৭৫,০০০ টাকা লোকসান হলেও আইনগতভাবে তমালিকা ব্যক্তিগতভাবে এই দায়ের দায়ভার বহন করতে বাধ্য নয়। প্রতিষ্ঠানের সম্পদে তার যেটুকু অংশ ছিল কেবল সেটুকুই লোকসানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তার ওপর দায় আরোপ করা যায় না।

    অতএব, অংশীদারি আইনের নাবালক সংক্রান্ত বিধান মোতাবেক তমালিকার লোকসানের ব্যক্তিগত দায় অস্বীকার করা আইনসংগত ও সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন