বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রফিক মিয়া অনেক বছর আগেই তার জন্মভূমি ছেড়ে, জীবিকার সন্ধানে এই জয়নগর অঞ্চলে বসতি গড়েছে। পরিশ্রম, সততা ও বুদ্ধির জোরে সহায় সম্বলহীন অবস্থা থেকে রফিক মিয়া আজ বড় ব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছে। সে লোক ঠকায় না বরং মানুষের উপকার করে। আজ যেমন তার সহায়-সম্পত্তি হয়েছে, তেমনি সমাজের সকল মানুষ তাকে সম্মানও করে।
- ক)(1)
ঝালরওয়ালা সালু দ্বারা আবৃত কবরটি দেখতে কীসের মতো?
- খ)(2)
“ধান দিয়া কী হইবো মানুষের জান যদি না থাকে?” – ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটের সাদৃশ্য কোথায়? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“অস্তিত্বের সংকট মোকাবেলায় মজিদ ও রফিক মিয়া দৃঢ় হলেও দুজনের কৌশল ও পরিণতি ভিন্ন"। - মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঝালরওয়ালা সালু দ্বারা আবৃত কবরটি দেখতে মাছের পিঠের মতো।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, মানুষের জীবন বা অস্তিত্বের সুরক্ষাই সবকিছুর আগে এবং জীবনের চেয়ে সম্পদের মূল্য বেশি হতে পারে না।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে শেষপর্যায়ে যখন বিধ্বংসী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়, তখন মজিদ খোদার ওপর ভরসা রাখতে বলে এই কথাটি উচ্চারিত হতে দেখে। জীবন যদি রক্ষা না পায়, তবে ধন-সম্পদ বা মাঠের ধান দিয়ে কোনো লাভ হয় না। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কায় অস্তিত্বের সংকট থেকেই চরম সত্য হিসেবে এই উপলব্ধির প্রকাশ ঘটেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটের সাদৃশ্য রয়েছে বেঁচে থাকার তাগিদে জন্মভূমি ত্যাগ করে নতুন অঞ্চলে বসতি স্থাপন এবং অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলার বাস্তবতায়।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদের আদি নিবাস ছিল এক অনাহারক্লিষ্ট ও শস্যহীন অঞ্চলে, যেখানে মানুষের জীবনের চেয়ে ক্ষুধা বড় সংকট ছিল। সেই চরম জীবনসংগ্রামের তাগিদে জীবিকার সন্ধানে সে নিজ এলাকা ছেড়ে দূরবর্তী মহব্বতনগর গ্রামে এসে আশ্রয় নেয়।
উদ্দীপকের রফিক মিয়াও বহু বছর আগে অভাব ও জীবিকার তাগিদে নিজের জন্মভূমি ছেড়ে সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় জয়নগর অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে। উভয়ের ক্ষেত্রেই জন্মভূমি ত্যাগ করে নতুন পরিবেশে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা ও শূন্য থেকে জীবনের উত্তরণ ঘটানোর প্রেক্ষাপটে গভীর সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“অস্তিত্বের সংকট মোকাবেলায় মজিদ ও রফিক মিয়া দৃঢ় হলেও দুজনের কৌশল ও পরিণতি ভিন্ন”— মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের মূল চরিত্র মজিদ শস্যহীন এলাকা থেকে এসে মহব্বতনগর গ্রামে নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশল হিসেবে ধর্মের অপব্যবহার ও প্রতারণার পথ বেছে নেয়। সে একটি পুরোনো কবরকে কাল্পনিক মোদাচ্ছের পীরের মাজার সাজিয়ে গ্রামীণ সহজ-সরল মানুষকে ভীতি প্রদর্শন ও অন্ধবিশ্বাসে আবদ্ধ করে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করে। ফলে সে বৈষয়িক ক্ষমতা অর্জন করলেও তার ভিত্তি ছিল মিথ্যা ও ভয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার শেষ পরিণতি হয় অভ্যন্তরীণ সংশয়, মানসিক অস্থিরতা ও চরম নিরাপত্তাহীনতা।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের রফিক মিয়া জীবিকার তাগিদে নতুন অঞ্চলে এসে সততা, কঠোর পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তাকে কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে। সে কাউকে ঠকায়নি, বরং মানুষের উপকার করেছে। এর ফলে সে সমাজে একজন সম্মানিত ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মানুষের ভালোবাসা ও স্থায়ী সামাজিক মর্যাদা লাভ করেছে।
অতএব, দেখা যায় যে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে মজিদ ও রফিক মিয়া দুজনেই আপসহীন ও সংকল্পবদ্ধ হলেও মজিদের কৌশল ছিল প্রতারণামূলক এবং পরিণতি ছিল আত্মিক সংকট ও ভীতিপূর্ণ। বিপরীতভাবে, রফিক মিয়ার কৌশল ছিল সততা ও নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং পরিণতি ছিল সার্বিক সম্মান ও সাফল্য। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও