উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
রাজশাহীর বিশিষ্ট শিল্পপতি মি. ইমাম চৌধুরী চর-খিদিরপুরে একশত একর পতিত জমিতে একটি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলেন। এতে ঐ এলাকার মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া বিনোদন পিপাসু জনসাধারণের পার্কে যাতায়াতের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণসহ বিদ্যুতের ব্যবস্থাও করা হয়। ফলে ঐ এলাকার সার্বিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়।
- ক)(1)
উৎপাদন কী?
- খ)(2)
“উৎপাদন সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. ইমাম চৌধুরীর কার্যক্রম উৎপাদনের কোন খাতের অন্তর্ভুক্ত ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উৎপাদন প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করে”— উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতিপ্রদত্ত সম্পদের রূপ পরিবর্তন করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী নতুন উপযোগ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে উৎপাদন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপাদান সরাসরি মানুষের ভোগের উপযোগী নাও হতে পারে। উৎপাদনের মাধ্যমে এসব প্রাকৃতিক সম্পদের আকার, আকৃতি ও রূপগত পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে রূপান্তরিত করা হয়। এতে অব্যবহৃত বা অপচয় হতে থাকা সম্পদ মানুষের প্রয়োজনে কাজে লাগে এবং সম্পদের অপচয় রোধ হয়ে সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। তাই বলা হয়, উৎপাদন সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. ইমাম চৌধুরীর কার্যক্রম উৎপাদনের সেবা খাতের (Service Sector) অন্তর্ভুক্ত।
যে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড কোনো দৃশ্যমান বা স্পর্শনীয় বস্তুগত পণ্য তৈরি না করে মানুষের মানসিক, শারীরিক বা বস্তুগত প্রয়োজন পূরণে প্রত্যক্ষ সহায়তা বা তৃপ্তি প্রদান করে, তাকে সেবা খাত বলে। পর্যটন ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম সেবা খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
উদ্দীপকে শিল্পপতি মি. ইমাম চৌধুরী চরাঞ্চলের একশত একর পতিত জমিতে একটি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলেন। বিনোদন পার্ক মূলত মানুষের ক্লান্তি দূর করে মানসিক আনন্দ ও প্রশান্তি বা বিনোদন উপযোগ সৃষ্টি করে। যেহেতু বিনোদন কোনো স্পর্শনীয় পণ্য নয় বরং একটি অভিজ্ঞতা ও মানসিক উপযোগ প্রদানকারী সেবা, তাই তাঁর এই কার্যক্রম উৎপাদনের সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উৎপাদন প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করে”— উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো উৎপাদন। প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবহারের মাধ্যমে যখন উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তখন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, মানুষের আয় বাড়ে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. ইমাম চৌধুরী চর-খিদিরপুরের একশত একর পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে সেখানে একটি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলেন। এর ফলশ্রুতিতে নিম্নোক্ত উন্নয়ন সাধিত হয়:
১. সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: ফেলে রাখা অনাবাদী ও পতিত জমিকে বিনোদন ক্ষেত্রে রূপান্তর করে জমির যথাযথ উপযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: পার্কে পরিচালনার বিভিন্ন কাজে স্থানীয় বহু বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে।
৩. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: পর্যটক ও দর্শনার্থীদের যাতায়াত সুগম করতে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। এই অবকাঠামোগত সুবিধা পুরো এলাকার যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করেছে।
৪. সার্বিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ আসায় এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধার বিস্তার ঘটে সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে।অতএব, বলা যায় যে, উৎপাদন কার্যক্রমের মাধ্যমেই অব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদের উপযোগ সৃষ্টি হয়ে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং গ্রামীণ অবকাঠামোসহ সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তাই প্রদত্ত উক্তিটি পুরোপুরি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও