পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
হাসান সাহেব তার মেয়েকে বললেন, "আমাদের দেশে এমন এক নেতার জন্ম যিনি ব্রিটিশ ভারতের কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আন্দোলন করেছেন। শুধু মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও তিনি একটি বড় রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- ক)(1)
দেশবন্ধু উপাধি দেওয়া হয় কাকে?
- খ)(2)
নওয়াব আবদুল লতিফকে বাংলার সৈয়দ আহমেদ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হওয়ার বিষয়টি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের রাজনৈতিক অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্তরঞ্জন দাশকে 'দেশবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঊনবিংশ শতাব্দীতে স্যার সৈয়দ আহমেদ যেমন ভারতের মুসলমানদের আধুনিক ও ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করে নবজাগরণ ঘটিয়েছিলেন, তেমনি নওয়াব আবদুল লতিফ বাংলার অনগ্রসর মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা ও পাশ্চাত্য ভাবধারার বিস্তার ঘটান। বাংলার মুসলিম সমাজে আধুনিক চিন্তাভাবনা প্রচার এবং শিক্ষা প্রসারে পথিকৃৎ ভূমিকার কারণে তাঁকে 'বাংলার স্যার সৈয়দ আহমেদ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তাঁর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হওয়ার পটভূমি অত্যন্ত সংগ্রামী:
মওলানা ভাসানী মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং সাধারণ কৃষক-শ্রমিকের শোষণের বিরুদ্ধে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১৯ সালে তিনি খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। আসামে প্রবর্তিত বাঙালি কৃষকবিরোধী বৈষম্যমূলক 'লাইন প্রথা' বাতিলের দাবিতে তিনি আসামের ধুবড়ী ও ভাসানচরে কৃষকদের সংগঠিত করে ঐতিহাসিক আন্দোলনের ডাক দেন। এই ভাসানচরের কৃষক সম্মেলনের পর থেকেই তিনি 'ভাসানী' নামে পরিচিত হন। জমিদার, জোতদার ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শোষকদের বিরুদ্ধে দরিদ্র কৃষকদের অধিকার আদায়ে আজীবন আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি একজন আপসহীন জাতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। তাঁর অবদান সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো:
১. রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা: তিনি ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে দলকে ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র দিতে ১৯৫৫ সালে এর নাম 'আওয়ামী লীগ' রূপান্তরে নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন।
২. যুক্তফ্রন্ট গঠনে ভূমিকা: ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্ট গঠনে এবং বিপুল বিজয়ে তিনি নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন।
৩. কাগমারী সম্মেলন: ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে তিনি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিখ্যাত 'আসসালামু আলাইকুম' উচ্চারণ করে বিচ্ছিন্নতার প্রথম রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেন।
৪. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে আইয়ুব খানের পতন ত্বরান্বিত করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দীদের মুক্তিতে চাপ সৃষ্টি করেন।
৫. স্বাধীনতা সংগ্রাম: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন জোগাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।সুতরাং, মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রতীক হিসেবে মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক অবদান অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও