সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
সিয়াম পড়াশুনার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতে পারদর্শী। তার কলেজে নববর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে নব নির্মিত শহিদ মিনারের পাদদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সিয়াম দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ, সততা, ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে বক্তব্য প্রদান করে। এ সময় তার পরনে ছিল বৈশাখী রঙের পাঞ্জাবি। আরিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সে দেখছে বর্তমান সময়ে কৃষিকাজের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি বের হয়েছে। কিন্তু গ্রামের কৃষকরা সঠিক ব্যবহার না জানার কারণে শতভাগ সুবিধা নিতে পারছে না।
- ক)(1)
তথ্য প্রযুক্তি কী?
- খ)(2)
কৃষিক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ব্যবধানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে সংস্কৃতির ধরন ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
আরিশের দৃষ্টিতে বর্তমান বাংলাদেশের কৃষকরা শতভাগ সুবিধা নিতে পারছে না। তা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তথ্য প্রযুক্তি (Information Technology) হলো কম্পিউটার এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও আদান-প্রদানের সমন্বিত বিজ্ঞান ও কলাকৌশল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ব্যবধানের প্রকৃতি বলতে বোঝায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির (বস্তুগত সংস্কৃতি) যে দ্রুত গতিতে বিকাশ ঘটছে, কৃষকদের মানসিকতা, জ্ঞান, দক্ষতা বা মূল্যবোধ (অবস্তুগত সংস্কৃতি) সেই গতিতে বিকশিত হতে পারছে না। ফলে আধুনিক কৃষিযন্ত্র বা উচ্চফলনশীল পদ্ধতির আবিষ্কার ও সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে বা সনাতন মানসিকতার কারণে কৃষক তা দক্ষতার সাথে পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে বস্তুগত সংস্কৃতির অগ্রগতি এবং অবস্তুগত সংস্কৃতির পিছিয়ে থাকার মধ্যে যে ফাঁক বা অসঙ্গতি তৈরি হয়, তা-ই কৃষিক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ব্যবধান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞানে সংস্কৃতি প্রধানত দুই প্রকার: ১. বস্তুগত সংস্কৃতি (Material Culture) এবং ২. অবস্তুগত সংস্কৃতি (Non-material Culture)। উদ্দীপকে উভয় ধরনের সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যায়।
বস্তুগত সংস্কৃতি হলো মানুষের তৈরি দৃশ্যমান, স্পর্শযোগ্য ও ভৌত উপাদানসমূহ। উদ্দীপকে উল্লিখিত নবনির্মিত 'শহিদ মিনার', সিয়ামের পরিহিত 'বৈশাখী রঙের পাঞ্জাবি' এবং আরিশের বর্ণিত 'আধুনিক কৃষিজ যন্ত্রপাতি' হলো বস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ।
অপরদিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি হলো অদৃশ্য, স্পর্শাতীত উপাদান—যেমন মানুষের ভাব-অনুভূতি, চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ, নীতি ও আদর্শ। উদ্দীপকে সিয়ামের বক্তব্যে উঠে আসা 'দেশপ্রেম', 'নৈতিকতা', 'সামাজিক দায়িত্ববোধ', 'সততা' এবং 'ধর্মীয় সহনশীলতা' মূলত অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ। এভাবে উদ্দীপকে সংস্কৃতির উভয় ধরনের স্পষ্ট উপস্থিতি প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরিশের দৃষ্টিতে বর্তমান বাংলাদেশের কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারের সঠিক জ্ঞান না থাকায় শতভাগ সুবিধা নিতে পারছে না—এই পরিস্থিতিটি সমাজবিজ্ঞানী উইলিয়াম এফ. অগবার্ন (William F. Ogburn)-এর 'সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্ব' (Cultural Lag Theory)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
অগবার্ন তাঁর 'Social Change' (1922) গ্রন্থে সংস্কৃতিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অবস্তুগত সংস্কৃতি। তাঁর মতে, বস্তুগত সংস্কৃতি (যেমন—যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি) দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়, কিন্তু অবস্তুগত সংস্কৃতি (যেমন—দক্ষতা, জ্ঞান, বিশ্বাস, মূল্যবোধ) সেই গতিতে পরিবর্তিত হতে পারে না। ফলে দুই ধরনের সংস্কৃতির মধ্যকার গতি ও সময়ের এই পার্থক্যের কারণে একটি অসমতা বা ব্যবধান সৃষ্টি হয়, যাকে 'সাংস্কৃতিক ব্যবধান' বলা হয়।
উদ্দীপকে আধুনিক কৃষিযন্ত্র হলো বস্তুগত সংস্কৃতি, যা খুব দ্রুত উদ্ভাবিত হয়ে কৃষকদের নাগালের মধ্যে এসেছে। কিন্তু গ্রামের কৃষকদের জ্ঞান, প্রায়োগিক দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি, যা প্রযুক্তির গতির সাথে তাল মেলাতে পারেনি। কৃষক যন্ত্রপাতি হাতে পেলেও উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবে তার শতভাগ সুবিধা নিতে পারছে না। অর্থাৎ এখানে বস্তুগত সংস্কৃতির সাথে অবস্তুগত সংস্কৃতির সমন্বয়হীনতা বা ব্যবধান স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। সুতরাং, এটি অগবার্নের সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও