সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
সীমু তার বাবা-মার সাথে বিদেশে বসবাস করে। সে দেশে এসে ঢাকা মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে বাবা-মার সাথে নাটক উপভোগ করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কর্তৃপক্ষ জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কী?
- খ)(2)
আত্মহত্যা কী? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সীমু ও তার বাবা-মার নাটক উপভোগ করা কোন সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্তিসিদ্ধ চিন্তা ও অভিজ্ঞতালব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো বিষয় বা ঘটনা অনুসন্ধান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যক্তি কর্তৃক জেনে-বুঝে স্বেচ্ছায় নিজের জীবন অবসান ঘটানোর প্রক্রিয়াকে আত্মহত্যা বলে। সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুরখেইমের মতে, আত্মহত্যা নিছক কোনো ব্যক্তিগত বা মানসিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ঘটনা (Social fact)। সমাজে সামাজিক সংহতির মাত্রা অতিরিক্ত বা অত্যন্ত কম হলে ব্যক্তি হতাশ ও বিচ্ছিন্ন হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ডুরখেইম আত্মহত্যাকে অহংসর্বস্ব, পরার্থমূলক, নৈরাজ্যমূলক এবং নিয়তিবাদী—এই চার ভাগে বিভক্ত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সীমু ও তার বাবা-মার নাটক উপভোগ করা সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে 'অভৌতিক সংস্কৃতি' (Non-material culture)-র অন্তর্ভুক্ত।
মানুষ তার জীবনধারণের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করে তাই সংস্কৃতি। সমাজবিজ্ঞানী অগবার্ন সংস্কৃতিকে দু'ভাগে ভাগ করেছেন: বস্তুগত সংস্কৃতি ও অভৌতিক সংস্কৃতি। মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি, বিশ্বাস, শিল্পকলা, সাহিত্য, নাট্যকলা, ধ্যান-ধারণা ইত্যাদি যা ধরা বা ছোঁয়া যায় না কিন্তু অনুভব করা যায়, তা অভৌতিক সংস্কৃতির অন্তর্গত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সীমু তার বাবা-মার সাথে নাট্যমঞ্চে গিয়ে নাটক দেখছিল। নাটক হলো সাহিত্যের ও শিল্পকলার একটি অন্যতম নান্দনিক রূপ, যা মানুষের ভাবাবেগ ও চেতনাকে প্রকাশ করে। এটি দৃশ্যমান কাঠামোর বাইরে মূলত মানবিক অনুভূতি, চিন্তন ও সৃজনশীলতার প্রতিফলন। সুতরাং, সীমুদের এই নাটক উপভোগ করা অভৌতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবহার বস্তুগত সংস্কৃতির চরম বিকাশ তথা মানব সভ্যতার উৎকর্ষতাকে তুলে ধরে—মন্তব্যটি যথার্থ।
সভ্যতা হলো সংস্কৃতির বস্তুগত বা কাঠামোগত রূপ, যা মানুষের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির চূড়ান্ত ফল। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের ভাষায়, "আমরা যা তাই আমাদের সংস্কৃতি, আর যা আমরা ব্যবহার করি তা আমাদের সভ্যতা" (Culture is what we are, civilization is what we use)। প্রযুক্তির উন্নয়ন, যন্ত্রপাতির আবিষ্কার ও মানুষের জীবনকে সহজ করার বস্তুগত উপাদানগুলোর ক্রমবিকাশ সভ্যতার পরিমাপক।
উদ্দীপকে নাটক চলার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা করে। আদিম যুগে বা মানব ইতিহাসের শুরুতে প্রাকৃতিক আলো ও শক্তির ওপর মানুষ সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের ফলে মানুষ জেনারেটর ও বিদ্যুতের মতো উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে, যা মানুষের কাজকে নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে।
এই প্রযুক্তিগত স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ মানব সভ্যতার উন্নত স্তরের নিদর্শন। জেনারেটরের মতো আধুনিক উদ্ভাবন মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং জীবনের গতিকে স্বাভাবিক রাখার প্রমাণ বহন করে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের কার্যকর ব্যবস্থা মানব সভ্যতার প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধি ও উৎকর্ষকেই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও