ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

সুমন, শাহীন ও সাজ্জাদ তিন বন্ধু সমঝোতার মাধ্যমে বেশ কয়েক বৎসর একটি ব্যবসায় পরিচালনা করছেন। বন্ধু সুমন হঠাৎ মারা যাওয়ায়, ব্যবসায়টি পরিচালনার ব্যাপারে তারা চিন্তিত। সুমনের ষোলো বছরের ছেলে সাজীদকে পাওনা পরিশোধ না করে তারা তাকে ব্যবসায়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

  1. ক)

    'অসীম দায়' কী?

    (1)
  2. খ)

    'ঘুমন্ত অংশীদার' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    তিন বন্ধুর ব্যবসায়টি কোন ধরনের অংশীদারি ব্যবসায়? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    নাজীদের ব্যবসায়ে অংশীদার হওয়ার সুবিধা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যবসায়ের দায়ের পরিমাণ বিনিয়োগকৃত মূলধনের চেয়ে বেশি হলে এবং তা পরিশোধের জন্য মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তিও দায়বদ্ধ হলে তাকে 'অসীম দায়' বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অংশীদার ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগ করে এবং চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ পায়, কিন্তু ব্যবসায়ের দৈনন্দিন পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না, তাকে ঘুমন্ত অংশীদার (Dormant or Sleeping Partner) বলে। ব্যবসায়ের ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণ অংশীদারদের মতো তার দায়ও অসীম থাকে, তবে তৃতীয় পক্ষের নিকট তার পরিচয় গোপন থাকে বলে সে সক্রিয় অংশীদারের মতো প্রকাশ্য দায় বহন করে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমন, শাহীন ও সাজ্জাদের ব্যবসায়টি একটি 'সাধারণ ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায়'।

    যে অংশীদারি ব্যবসায়ের স্থায়িত্বকাল বা মেয়াদ অংশীদারদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে এবং চুক্তিপত্রে এর মেয়াদের কোনো নির্দিষ্ট উল্লেখ থাকে না, তাকে ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায় বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমন, শাহীন ও সাজ্জাদ তিন বন্ধু পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যবসাটি পরিচালনা করে আসছেন। এতে কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বা নির্দিষ্ট কাজের উল্লেখ নেই। সাধারণ অংশীদারি আইনের বিধান অনুযায়ী অংশীদারদের পারস্পরিক সমঝোতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য গঠিত এমন ব্যবসায় ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায়ের অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমনের ষোলো বছর বয়সী ছেলে সাজীদ (প্রশ্নপত্রে মুদ্রণপ্রমাদজনিত কারণে 'নাজীদ' উল্লেখ করা হয়েছে) নাবালক হওয়ায় সে নাবালক অংশীদার হিসেবে বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।

    ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, কোনো নাবালক চুক্তিবদ্ধ হওয়ার অযোগ্য হওয়ায় সাধারণ অংশীদার হতে পারে না। তবে সকল বিদ্যমান অংশীদারের সর্বসম্মত সম্মতিক্রমে নাবালককে ব্যবসায়ের কেবল মুনাফার সুবিধার্থে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

    নাবালক অংশীদার হিসেবে সাজীদের সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. সীমিত দায়: সাজীদের দায় কেবল তার ব্যবসায়ে নিয়োজিত অংশ বা মূলধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ব্যবসায়ের কোনো ঋণের জন্য তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি দায়বদ্ধ হবে না।
    ২. শুধু মুনাফার অধিকার: সাজীদ ব্যবসায় থেকে চুক্তি অনুযায়ী মুনাফার অংশ পাওয়ার পূর্ণ অধিকারী হবে। কিন্তু লোকসানের দায় তার মূলধনের অতিরিক্ত অংশে বর্তাবে না।
    ৩. পরিচালনার দায়মুক্ত: তাকে ব্যবসায়ের দৈনন্দিন পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনায় বাধ্যতামূলকভাবে অংশ নিতে হবে না।
    ৪. হিসাবের তথ্য ও নিরীক্ষা: সে ব্যবসায়ের হিসাবপত্র পরিদর্শন ও নকল নেওয়ার অধিকার লাভ করবে।

    অতএব, সাজীদের বয়স ষোলো বছর হওয়ায় অংশীদারি আইনের আওতায় কোনো অসীম দায় গ্রহণ না করেই সে কেবল মুনাফা ভোগ ও সীমিত দায়ের সুবিধা লাভ করবে, যা তার জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন