‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে একটা নেতার আবির্ভাব ঘটে এবং একটি রাজনৈতিক দলে তাঁর অনেক অবদান রাখতে তিনি সক্ষম হন। সেই নেতা বুঝতে পারেন যে, একটি জাতি শিক্ষা-দীক্ষায় এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান না শিখলে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। তিনি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

  1. ক)

    ফরায়েজি আন্দোলন কেমন আন্দোলন ছিল?

    (1)
  2. খ)

    'ফারাক্কা লং মার্চ' বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন ব্যক্তিত্বের কথা বলা হয়েছে? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিত্বের অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফরায়েজি আন্দোলন ছিল মূলত একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন, যা পরবর্তীতে কৃষকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারত কর্তৃক একতরফাভাবে গঙ্গার পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে সৃষ্ট মারাত্মক খরা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রতিবাদে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক পদযাত্রাকে 'ফারাক্কা লং মার্চ' বলা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর কথা বলা হয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের নেতা একটি রাজনৈতিক দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, মুসলিম সমাজের শিক্ষা-দীক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ঢাকার নওয়াব পরিবারের সদস্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর জীবনের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।

    স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার অন্যতম কাণ্ডারি। তিনি অনগ্রসর মুসলমানদের উন্নয়নের জন্য শিক্ষার প্রসার আবশ্যক মনে করেছিলেন। তিনি লর্ড কার্জনকে পূর্ব বাংলার দুর্দশার কথা জানিয়ে নতুন প্রদেশ গঠনের প্রস্তাব সমর্থন করেন, যার ফলশ্রুতিতে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়। সুতরাং, উদ্দীপকে নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর কথাই বলা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিত্ব নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিষয়ক অবদান বাঙালি মুসলিম সমাজের নবজাগরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ছিল।

    প্রথমত, তিনি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করতে ব্রিটিশ সরকারকে জোরালো সমর্থন ও নেতৃত্ব দেন। বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকা নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় পূর্ব বাংলার আর্থ-সামাজিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হয়।

    দ্বিতীয়ত, ১৯০৬ সালে ঢাকায় তাঁর উদ্যোগে 'নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন' অনুষ্ঠিত হয় এবং তাঁর প্রস্তাবনায় উপমহাদেশের মুসলমানদের প্রথম রাজনৈতিক দল 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে মুসলিমদের পৃথক রাজনৈতিক সত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়।

    তৃতীয়ত, শিক্ষা বিস্তারে তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেন। এ ছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা এবং আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমানে বুয়েট)-এর মতো প্রতিষ্ঠানে তাঁর অনন্য অবদান রয়েছে।

    অতএব, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ পূর্ব বাংলার মুসলমানদের রাজনৈতিক জাগরণ এবং শিক্ষাদীক্ষায় স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন