মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৭
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ছেলেবেলা থেকে মিজানের স্বপ্ন সে প্রকৌশলী হবে। কিন্তু যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষায় সে কৃতকার্য হতে পারে না। এ অবস্থায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তার এ মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে তার বড় ভাই গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া করার কথা বলে। এতে সে অনুপ্রাণিত হয়ে তার ব্যর্থতার কারণ মূল্যায়ন করে এবং যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে সে পুনরায় পরীক্ষা দেয় এবং সফলতা অর্জন করে।
- ক)(1)
মানসিক চাপ কী?
- খ)(2)
বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
মিজানের মানসিক বিপর্যন্ত অবস্থার উৎস কী?
- ঘ)(4)
মিজান কীভাবে তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরে তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তির চাহিদার সাথে পরিবেশের প্রতিকূল বা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ভারসাম্যহীনতার কারণে শারীরিক ও মানসিক যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে মানসিক চাপ (Stress) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যখন কোনো ব্যক্তিকে এমন দুটি অপ্রীতিকর বা নেতিবাচক লক্ষ্যবস্তুর যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হতে হয়, যার কোনোটিই সে পছন্দ করে না, তখন যে মানসিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় তাকে বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব (Avoidance-Avoidance Conflict) বলে। যেমন: বিষণ্ন অবস্থায় কোনো রোগীর অপ্রীতিকর তেতো ওষুধ খাওয়া এবং কঠিন রোগভোগের যন্ত্রণার মধ্যে যেকোনো একটি পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার দ্বন্দ্ব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিজানের মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থার উৎস হলো 'হতাশা' (Frustration) বা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা।
মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, যখন কোনো ব্যক্তি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হতে গিয়ে কোনো বাধা বা বাধার সম্মুখীন হয় এবং লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তখন তীব্র হতাশার সৃষ্টি হয়। এই হতাশাই মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান উৎস।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শৈশব থেকেই প্রকৌশলী হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা এবং যথেষ্ট প্রস্তুতি সত্ত্বেও মিজান ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারেনি। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ফারাক তৈরি হয়, যা তাকে তীব্র হতাশায় নিমজ্জিত করে এবং সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সুতরাং, লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতাজনিত হতাশাই হলো তার মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থার মূল উৎস।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিজান চাপ মোকাবিলার গঠনমূলক বা সক্রিয় প্রতিক্রিয়া (Constructive coping) অবলম্বনের মাধ্যমে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।
মনোবিজ্ঞানে মানসিক চাপ ও হতাশা মোকাবিলার জন্য দুই ধরণের কৌশল লক্ষ্য করা যায়—রক্ষামূলক বা ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া এবং গঠনমূলক বা সমস্যা-কেন্দ্রিক প্রতিক্রিয়া। গঠনমূলক প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তি পরিস্থিতিকে বাস্তবসম্মতভাবে মূল্যায়ন করে, ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করে এবং লক্ষ্য অর্জনে নতুন পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে মিজান ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে তার বড় ভাই তাকে গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া গ্রহণের পরামর্শ দেন। এর ফলে মিজান অন্ধভাবে ভাগ্যকে দোষ না দিয়ে বা অপসংগতিমূলক আচরণ না করে সক্রিয় কৌশল অবলম্বন করে:
১. সে তার ব্যর্থতার কারণগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়ন করে।
২. সে তার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
৩. নতুন উদ্যমে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং সফলতা লাভ করে।পাঠ্যবইয়ের আলোকে, সমস্যা সমাধানমূলক এই গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের মাধ্যমেই মিজান তার মানসিক চাপ ও হতাশা জয় করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় এবং স্বাভাবিক সফল জীবনে প্রত্যাবর্তন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও