মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৭
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
হামিদ মিয়ার সাথে সম্পত্তি নিয়ে রশিদ মিয়ার অনেকদিন যাবৎ বিবাদ চলছিল। এক পর্যায়ে বিবাদটি এমন পর্যায়ে পৌছাল যে ক্ষুদ্ধ হামিদ মিয়া অপর পক্ষকে বললেন, "আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব"। একথা শুনে রশিদ মিয়া চরম অপমান বোধ করেন এবং তার ভিতর রাগ ও ক্রোধের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া হামিদ মিয়ার উক্তির সময় তার দেহভঙ্গি ও বাচনিক আচরণ ছিল উস্কানিমূলক ও আক্রমণাত্মক। তাই রশিদ মিয়াও ক্রোধে ঘোষণা করেন তিনিও সবকিছু দিয়ে এর মোকাবিলা করবেন।
- ক)(1)
আগ্রাসন কী?
- খ)(2)
সামাজিকীকরণে পরিবারের ভূমিকা কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে হামিদ মিয়ার উত্তিতে আগ্রাসনের কোন ধরনের প্রবৃত্তি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে হামিদ মিয়ার আক্রমণাত্মক উক্তি ও রশিদ মিয়ার জবাবের পেছনের কারণ কি একই?- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্যের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতিসাধন, আঘাত বা ধ্বংসাত্মক আচরণ করার প্রচেষ্টাকে আগ্রাসন (Aggression) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিকীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও নিয়মকানুন শেখে। পরিবার হলো সামাজিকীকরণের প্রাথমিক ও সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। পরিবারের সদস্যদের স্নেহ-ভালোবাসা, শাসন, অনুকরণ এবং পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর মধ্যে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে, নৈতিকতা ও সামাজিক আচরণের ভিত্তি রচিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হামিদ মিয়ার উক্তিতে আগ্রাসনের 'সহজাত বা আক্রমণাত্মক প্রবৃত্তি' এবং বিশেষ করে 'বাচনিক বা প্রত্যক্ষ আগ্রাসন' ফুটে উঠেছে।
মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েডের মতে, মানুষের আচরণকে পরিচালিত করার পেছনে দুটি মূল প্রবৃত্তি কাজ করে—জীবন প্রবৃত্তি (Eros) এবং মরণ প্রবৃত্তি (Thanatos)। মরণ প্রবৃত্তি ধ্বংসাত্মক আচরণ এবং আগ্রাসনের দিকে ধাবিত করে। উদ্দীপকে সম্পত্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ থেকে হামিদ মিয়ার ভেতর মরণ প্রবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
তিনি যখন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব" এবং তার সাথে আক্রমণাত্মক দেহভঙ্গি ও বাচনিক আচরণ যুক্ত করেন, তখন তা স্পষ্টতই অপরপক্ষকে মানসিকভাবে ভীত ও আঘাত করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শত্রুতামূলক আগ্রাসনকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হামিদ মিয়ার আক্রমণাত্মক উক্তি ও রশিদ মিয়ার জবাবের আপাত রূপ আগ্রাসী হলেও উভয়ের পেছনের মনস্তাত্ত্বিক কারণ বা উৎস পুরোপুরি এক নয়; বরং কিছুটা ভিন্ন।
হামিদ মিয়ার আগ্রাসনের পেছনে কাজ করেছে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং শত্রুতামূলক আগ্রাসী মনোভাব (Hostile Aggression)। তিনি আক্রমণটির সূচনা করেছেন প্রতিপক্ষকে দমন বা চূড়ান্ত আঘাত করার লক্ষ্যে, যা তার ধ্বংসাত্মক বা বাচনিক আগ্রাসনের বহিঃপ্রকাশ।
অপরদিকে, রশিদ মিয়ার আগ্রাসনের মূল কারণ হলো 'হতাশা-আগ্রাসন মতবাদ' (Frustration-Aggression Theory) এবং আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত পাওয়ার প্রতিক্রিয়া। হামিদ মিয়ার উস্কানিমূলক কথা ও দেহভঙ্গিতে রশিদ মিয়া চরম অপমান বোধ করেন। এই অপমান ও ক্ষোভ তার মনে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষা ও প্রতিঘাতের অংশ হিসেবে প্রতিক্রিয়াশীল আগ্রাসন (Reactive Aggression) প্রদর্শন করেন।
অতএব, হামিদ মিয়ার আচরণ ছিল স্বপ্রণোদিত আক্রমণাত্মক উস্কানি এবং রশিদ মিয়ার আচরণ ছিল উস্কানির মুখে মর্যাদারক্ষার প্রতিক্রিয়াশীল জবাব। তাই উভয়ের কারণ এক নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও