কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
রনি একজন কৃষক। তিনি প্রতিবছর তেল ও মশলাজাতীয় ফসল চাষ করেন। কিন্তু এই বছর তিনি অন্য জাতের ফসল চাষ করতে চান। এই জন্য তিনি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার নিকট পরামর্শ চাইলেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাকে "গরিবের মাংস" ফসলের চাষ করতে বললেন। কারণ ঐ ফসলের বাজারমূল্য ও চাহিদা তুলনামূলক বেশি ও সুস্বাদু। ফসলটি ধাপে ধাপে পরিপক্ক হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে সংগ্রহ করা হয়।
- ক)(1)
কোকুন কী?
- খ)(2)
অ্যাজোলা সার বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
রনি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার নিকট থেকে কোন ফসল চাষ সম্বন্দ্বে পরামর্শ পেয়েছিলেন এবং তার আন্তঃপরিচর্যা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রনির ফসল চাষের পরিবর্তনের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রেশম পোকার (পলু) পিউপা বা গুঁটি অবস্থার চারপাশে যে রেশমি আবরণ তৈরি হয়, তাকে কোকুন বা গুঁটি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অ্যাজোলা হলো পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র ফার্ন জাতীয় জলজ উদ্ভিদ। এটি বাতাসের নাইট্রোজেন সংবন্ধন করতে পারে। ধানক্ষেতে অ্যাজোলা চাষ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে তা জমিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব নাইট্রোজেন সরবরাহ করে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। তাই অ্যাজোলাকে অত্যন্ত কার্যকর একটি সবুজ বা জৈব সার বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনিকে 'গরিবের মাংস' নামে পরিচিত ডালজাতীয় ফসল (যেমন- মুগ বা মাষকলাই ডাল) চাষের পরামর্শ দিয়েছিলেন। ডালজাতীয় ফসলে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ আমিষ থাকে বলে একে 'গরিবের মাংস' বলা হয়।
ডাল ফসলের আন্তঃপরিচর্যা নিম্নরূপ:
১. আগাছা দমন: চারা গজানোর ২০-২৫ দিনের মধ্যে প্রথমবার নিড়ানি দিয়ে জমি আগাছামুক্ত ও মাটি আলগা করে দিতে হয়।
২. চারা পাতলাকরণ: চারা খুব ঘন হলে দুর্বল চারাগুলো তুলে ফেলে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা হয়।
৩. সেচ ও নিষ্কাশন: সাধারণত ডাল ফসলে অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে অতি খরায় ফুল ও ফল আসার সময় হালকা সেচ দিতে হয়। জমিতে যেন পানি জমে না থাকে সে জন্য দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়।
৪. রোগ ও পোকা দমন: জাবপোকা, ফলছিদ্রকারী পোকা এবং হলুদ মোজাইক রোগ দমনে যথাসময়ে অনুমোদিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রনির তেল ও মসলাজাতীয় ফসলের পরিবর্তে ডালজাতীয় ফসল চাষের সিদ্ধান্তটি কৃষি-পরিবেশ ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত যৌক্তিক।
প্রথমত, শস্যাবর্তন (Crop Rotation): একই জমিতে বারবার তেল ও মসলা চাষ করলে মাটির নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায় এবং রোগবালাই বৃদ্ধি পায়। ডাল ফসল চাষ করলে শস্যপর্যায় বজায় থাকে।
দ্বিতীয়ত, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি: ডালজাতীয় ফসলের মূলে নডিউল (গ্রন্থি) তৈরি হয়, যা বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন মাটিতে সংবন্ধন করে। ফলে জমিতে ইউরিয়া সারের খরচ কমে এবং পরবর্তী ফসলের জন্য মাটির উর্বরতা বাড়ে।
তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক লাভ: উদ্দীপক অনুযায়ী, এ ফসলের বাজারমূল্য ও চাহিদা বেশি। ধাপে ধাপে পরিপক্ক হওয়ার কারণে কৃষক ধাপে ধাপে ফসল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে নিয়মিত নগদ অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
চতুর্থত, পুষ্টি নিরাপত্তা: ডাল আমিষের প্রধান ও সহজলভ্য উৎস, যা পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক।
অতএব, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং অধিক অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জনের বিবেচনায় রনির ফসল চাষ পরিবর্তনের পদক্ষেপটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও