কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ইকবাল সাহেব ফল চাষের সিদ্ধান্ত নিলেন। এজন্য তিনি একজন উদ্যানতত্ত্ববিদের পরামর্শ নিলেন। উনি ইকবাল সাহেবকে এমন একটি ফলচাষের কথা বললেন, যেটি পুষ্টিসমৃদ্ধ, উচ্চফলনশীল এবং ফলটি গরীবের আপেল নামে পরিচিত। টাটকা অবস্থায় খাওয়া ছাড়াও ফলটি প্রক্রিয়াজাত করে জ্যাম, জেলি, জুস ইত্যাদি তৈরি করা যায়। বর্তমানে বাজার দর ও চাহিদা ভালো থাকায় ফলটির চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  1. ক)

    একটি আঁশ জাতীয় ফসলের নাম লেখ।

    (1)
  2. খ)

    আপেল কুল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ফলটির বংশবিস্তার পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলটির চাহিদা ও চাষবৃদ্ধি পাওয়ার কারণগুলো বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি আঁশ জাতীয় ফসলের নাম হলো পাট (বা তুলা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আপেল কুল একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে এসকরবিক এসিড বা ভিটামিন 'সি' থাকে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ১০০ গ্রাম আপেল কুলে কমবেশি ৫০-৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, যা অনেক প্রচলিত ফলের চেয়ে বেশি। নিয়মিত আপেল কুল খেলে স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ হয় এবং ত্বক ও দাঁত সুস্থ থাকে। তাই আপেল কুলকে ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ ফল বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'গরীবের আপেল' নামে পরিচিত পুষ্টিসমৃদ্ধ ও উচ্চফলনশীল ফলটি হলো পেয়ারা (বা কুল/বরই, তবে সাধারণত পেয়ারাকে 'গরীবের আপেল' বলা হয়)।

    পেয়ারা/কুলের প্রধান বংশবিস্তার পদ্ধতিগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. বীজ দ্বারা বংশবিস্তার (যৌন পদ্ধতি): পরিপক্ব ফলের বীজ সংগ্রহ করে তা নার্সারিতে বপন করে চারা তৈরি করা হয়। তবে বীজের চারা থেকে মাতৃগুণাগুণ বজায় থাকে না এবং ফল ধরতে বিলম্ব হয়।
    ২. অঙ্গজ বংশবিস্তার (অযৌন পদ্ধতি): জাতের বিশুদ্ধতা ও মাতৃগুণাগুণ বজায় রাখতে অঙ্গজ পদ্ধতিই সর্বোত্তম।
    ক. গুটি কলম (Air Layering): নির্বাচিত সুস্থ ডালের ছাল গোল করে তুলে নিয়ে মাটি ও গোবরের মিশ্রণ দিয়ে ঢেকে পলিথিন দিয়ে বেঁধে শিকড় গজানো হয়।
    খ. ক্লেফ্ট বা জোড় কলম (Grafting): আদিজোড় (রুটস্টক) এর সাথে উন্নত জাতের সায়ন জোড়া লাগিয়ে উন্নত চারার সৃষ্টি করা হয়।
    গ. চোখ কলম বা বাডিং (Budding): কুলের ক্ষেত্রে 'টি' বাডিং বা রিং বাডিং পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ফলপ্রসূ।

    এসব অঙ্গজ পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত ফলনশীল ও উৎকৃষ্ট গুণসম্পন্ন চারা উৎপাদন করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলটি হলো পেয়ারা (গরীবের আপেল)। বর্তমানে বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা ও চাষ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উচ্চ পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা: পেয়ারা ভিটামিন 'সি', ভিটামিন 'এ', আঁশ ও খনিজ পদার্থে ভরপুর। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং হজমে সহায়তা করে।
    ২. সহজ চাষাবাদ ও কম খরচ: পেয়ারা গাছ বিভিন্ন ধরনের মাটি ও আবহাওয়ায় সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এতে তুলনামূলক রোগবালাই কম হয় এবং পরিচর্যা সহজ হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম।
    ৩. উচ্চ ফলনশীল ও সারাবছর ফলন: থাই পেয়ারা বা উন্নত জাতের পেয়ারা বছরে প্রায় সারাবছরই ফলন দেয় এবং অল্প সময়ে গাছ থেকে প্রচুর ফল পাওয়া যায়।
    ৪. বহুমুখী ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা: পেয়ারা শুধু তাজা ফল হিসেবেই খাওয়া হয় না, বরং এটি থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে জ্যাম, জেলি, জুস ইত্যাদি তৈরি করা যায়।
    ৫. অর্থনৈতিক লাভ ও বাজারমূল্য: বাজারে সারাবছর পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা আকর্ষণীয় দাম পান। বেকার যুবকরা পেয়ারা বাগান করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।

    উপরিউক্ত বাণিজ্যিক ও পুষ্টিগত সুবিধার কারণেই বর্তমানে ফলটির চাহিদা ও চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন