সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    শালবন বিহার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    গ্রাফচিত্রের ১৯৫২ সালটি গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উক্ত সালটির চেতনা থেকে আমরা স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গিয়েছি" বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'বিজু' (বিশেষ করে বৈশাখী পূর্ণিমা বা বুদ্ধ পূর্ণিমা প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শালবন বিহার হলো বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার ময়নামতিতে অবস্থিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। অষ্টম শতকের দিকে দেব রাজবংশের চতুর্থ রাজা শ্রী ভবদেব এটি নির্মাণ করেছিলেন। এটি মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধর্মীয় শিক্ষা, বিদ্যাচর্চা ও বসবাসের জন্য নির্মিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার ছিল, যা তৎকালীন সমতটের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাক্ষ্য বহন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের গ্রাফচিত্রে প্রদর্শিত ১৯৫২ সালটি মূলত ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের স্মারক হওয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের মাতৃভাষা বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর প্রতিবাদে বাঙালি ছাত্র-জনতা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। এ ঘটনাটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সফল আত্মপ্রকাশ এবং স্বাধিকার আন্দোলনের মূল ভিত্তি তৈরি করে দেয় বলে ১৯৫২ সালটি অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উক্ত সালটির (১৯৫২) চেতনা থেকে আমরা স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গিয়েছি"—উক্তিটি যথার্থ ও ঐতিহাসিক সত্য।

    ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষের সূতিকাগার। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা উপলব্ধি করতে পারে যে পাকিস্তান কাঠামোর অধীনে তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার কখনো সুরক্ষিত থাকবে না।

    উদ্দীপকের সিঁড়ি বা ধাপচিত্রে ১৯৫২ সালের ভিত্তি থেকে পর্যায়ক্রমে ১৯৫৪, ১৯৬৬, ১৯৬৯ হয়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন দেখানো হয়েছে। বায়ান্নর এই স্বাধিকার চেতনা থেকেই পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালির বিজয় ত্বরান্বিত হয়। এরপর পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি, যা ছিল বাঙালির 'ম্যাগনা কার্টা', ঘোষিত হয়। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং সর্বশেষে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    অতএব, দেখা যায় যে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের প্রেরণা ও বাঙালি জাতীয়তাবোধই ধাপে ধাপে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে গিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন