পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ক)(1)
প্রাকৃতিক দুর্যোগ কী?
- খ)(2)
জলবায়ু বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাটির তিনটি প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বর্ণিত সমস্যা মোকাবেলায় রাষ্ট্রসমূহের দায়িত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো প্রকৃতির অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চরম ঘটনা (যেমন—ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প), যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছরের আবহাওয়ার (তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতির) গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলা হয়। আবহাওয়া প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু জলবায়ু একটি দীর্ঘমেয়াদি সামগ্রিক প্রাকৃতিক অবস্থা নির্দেশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাটি হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন। এর তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দুই মেরুর বরফ এবং পর্বতশৃঙ্গের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাংলাদেশসহ উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
২. চরম আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বৃদ্ধি: গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অনাবৃষ্টি, খরা, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
৩. কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব: তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তনের ফলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এবং খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। এছাড়া বাসস্থান ধ্বংস ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বহু প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়ছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাটি হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming)। এই বৈশ্বিক সংকট একক কোনো দেশের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়; বরং তা মোকাবেলায় বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। নিচে এ সংক্রান্ত দায়িত্বসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল, গ্যাস) পোড়ানোর মাত্রা দ্রুত কমিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে শিল্পোন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা বাধ্যতামূলকভাবে হ্রাস করতে হবে।
২. নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ প্রভৃতি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শক্তির উদ্ভাবন এবং প্রয়োগে রাষ্ট্রসমূহকে বিপুল বিনিয়োগ ও নীতিগত সমর্থন দিতে হবে।
৩. আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন: প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ অন্যান্য বৈশ্বিক নীতি ও চুক্তিগুলো কার্যকরভাবে মেনে চলা সকল রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে কার্বন নির্গমনে কঠোর সীমা নির্ধারণ জরুরি।
৪. ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে অভিযোজন ও পুনর্বাসনের জন্য উন্নত দেশগুলোর গঠিত জলবায়ু তহবিল (Green Climate Fund) থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে।
৫. বনভূমি সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ: বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন শোষণের জন্য বিশ্বব্যাপী ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং বন উজাড় রোধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।পরিশেষে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে সকল রাষ্ট্রকে পারস্পরিক দোষারোপ পরিহার করে দায়বদ্ধতার সাথে একযোগে কাজ করতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও