পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ লাহোরে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের এক অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পরের দিন ভারতের জাতীয় দৈনিকগুলোতে সেটাকে 'পাকিস্তান প্রস্তাব' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- ক)(1)
আগরতলা মামলা কী?
- খ)(2)
দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্য গুলো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
পাকিস্তান সৃষ্টিতে বর্ণিত প্রস্তাবটির প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ জন বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাকিস্তান রাষ্ট্রকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যে মিথ্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়, তা ঐতিহাসিকভাবে 'আগরতলা মামলা' নামে পরিচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে ১৯৩৯-১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক প্রচারিত একটি রাজনৈতিক মতবাদকে বোঝায়, যেখানে ভারতবর্ষের হিন্দু ও মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের নিছক দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায় নয় বরং দুটি সম্পূর্ণ পৃথক জাতি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই তত্ত্বের মূলকথা ছিল হিন্দু ও মুসলমানের ধর্ম, সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পূর্ণ ভিন্ন, ফলে তারা একসাথে এক রাষ্ট্রে বসবাস করতে পারে না এবং তাদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রয়োজন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবটি হলো ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'। লাহোর প্রস্তাবের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ভৌগোলিক সংলগ্ন অঞ্চল চিহ্নিতকরণ: ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে পুনর্গঠন করে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়।
২. স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ গঠন: মূল লাহোর প্রস্তাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম 'রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যাদের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
৩. সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ: মুসলিম এবং অমুসলিম উভয় অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষার জন্য তাদের সাথে পরামর্শক্রমে সংবিধানে পর্যাপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা রাখার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তান সৃষ্টিতে উদ্দীপকে বর্ণিত লাহোর প্রস্তাবের প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও কেন্দ্রীয়।
লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমেই নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রথমবারের মতো ভারতীয় মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দাবি উত্থাপন করে। এর পূর্বে মুসলিম লীগ প্রধানত ব্রিটিশ ভারতের অধীনে মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু লাহোর প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মাঝে এক নতুন জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং তাদের মনে পৃথক রাষ্ট্রের স্বপ্ন জাগ্রত করে।
যদিও মূল প্রস্তাবে বহুবচনে 'States' (রাষ্ট্রসমূহ) কথাটি ছিল, পরবর্তীকালে ১৯৪৬ সালে দিল্লির আইন প্রণেতাদের সম্মেলনে জিন্নাহ একে কৌশলে একবচনে রূপান্তর করে একক 'পাকিস্তান রাষ্ট্র' গঠনের ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করান। ফলে এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই মুসলিম লীগ তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে, যার চূড়ান্ত ফলশ্রুতি হিসেবে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিজাতি তত্ত্ব ও লাহোর প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
অতএব, লাহোর প্রস্তাবই ছিল পাকিস্তান সৃষ্টির মূল ভিত্তি ও রূপরেখা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও