হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
বিজয় বাবু উচ্চ শিক্ষিত এবং যুক্তিবাদী সমাজ সংস্কারক। তিনি লক্ষ করেন, তার এলাকায় বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক হয়ে হিন্দুরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠী চিন্তায় সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই তিনি হিন্দুদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য এক ব্রহ্মকে আহ্বান করেন। অপরদিকে, সুকেশ বাবু সৎসঙ্গের অনুসারী। তিনি মনে করেন, ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয় বরং বিজ্ঞানসিদ্ধ। ভালোবাসাই একমাত্র উপায় যা দিয়ে শান্তি স্থাপন করা যায়।
- ক)(1)
বেদ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'স্মৃতিশাস্ত্র' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
বিজয় বাবুর চিন্তা-চেতনা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সুকেশ বাবু অনুসারিত সংঘ খুবই গুরুত্বপূর্ণ- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
'বেদ' শব্দের অর্থ জ্ঞান।
- খ)
স্মৃতিশাস্ত্র হলো বেদের পরে ধর্ম-অধর্ম ও কর্তব্য-অকর্তব্য নির্ণয়ের জন্য রচিত গ্রন্থাবলি। বৈদিক শিক্ষার কর্ম ও জ্ঞান, এই দুই মতের সংযোগে স্মৃতিশাস্ত্র সৃষ্টি হয়েছে। এতে হিন্দুসমাজ পরিচালনার বিধি-বিধানও আছে। মনুসংহিতা, পরাশর সংহিতা ও যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। ধর্ম নির্ণয়ে স্মৃতিশাস্ত্র দ্বিতীয় প্রমাণ।
- গ)
বিজয় বাবুর চিন্তা-চেতনায় রাজা রামমোহন রায়ের আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে: ঊনবিংশ শতকে বিজ্ঞানমনস্ক সুধীজন প্রচলিত পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় বিধানের সংস্কারের কথা ভাবতে শুরু করেন। শাস্ত্রেও বলা আছে, 'যুক্তিহীনবিচারেণ ধর্মহানিঃ প্রজায়তে', অর্থাৎ যুক্তিহীন বিচারে ধর্মের হানি ঘটে। এ ক্ষেত্রে যুক্তিবাদী সংস্কারকদের মধ্যে রাজা রামমোহন রায় বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি লক্ষ করেন, বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক হয়ে হিন্দু সম্প্রদায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠীচিন্তায় সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। সব উপাস্য যে একই ব্রহ্মের বিভিন্ন প্রকাশ, তা তারা ভুলতে বসেছে। তখন তিনি এক ব্রহ্মের উপাসনার তত্ত্ব উপস্থাপন করেন এবং ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য এক ব্রহ্মকে সাধনার আহ্বান জানান। তিনি 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন এবং বলেন, ব্রহ্মই একমাত্র আরাধ্য, হিন্দুরা একেশ্বরবাদী।
উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: বিজয় বাবু উচ্চশিক্ষিত ও যুক্তিবাদী সমাজ সংস্কারক। তাঁর এলাকার হিন্দুরা বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক হয়ে সংকীর্ণ গোষ্ঠীচিন্তায় আবদ্ধ হয়েছে দেখে তিনি ঐক্যের জন্য এক ব্রহ্মকে আহ্বান করেন। এটি রামমোহন রায়ের চিন্তার সাথে হুবহু মিলে যায়।
অতএব, বিজয় বাবুর চিন্তা-চেতনা রামমোহন রায়ের একেশ্বরবাদী সংস্কার-চেতনারই প্রতিফলন।
- ঘ)
সুকেশ বাবু সৎসঙ্গের অনুসারী, যার প্রতিষ্ঠাতা ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। আমার মতে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এ সংঘ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সৎসঙ্গের পরিচয়: ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ১৮৮৮ সালে পাবনা জেলার হিমায়িতপুর গ্রামে আবির্ভূত হন। তিনি 'সৎসঙ্গ' নামে ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এর আদর্শ হলো, ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, বরং বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র এবং ভালোবাসাই মহামূল্য, যা দিয়ে শান্তি কেনা যায়।
১. ভালোবাসার আদর্শ: সুকেশ বাবুর বিশ্বাস, ভালোবাসাই শান্তি স্থাপনের একমাত্র উপায়। ভালোবাসা মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে সম্প্রীতি গড়ে তোলে, যা সামাজিক শান্তির ভিত্তি।
২. ধর্ম ও বিজ্ঞানের সমন্বয়: সৎসঙ্গ ধর্ম ও বিজ্ঞানকে একত্রিত করে জীবন গঠনের কথা বলে। এতে কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস কমে এবং যুক্তিসম্মত ধর্মাচরণ গড়ে ওঠে।
৩. পাঁচটি মূলনীতি: এ সংঘের মূলনীতি হলো যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী ও সদাচার। এগুলো ব্যক্তিজীবনে সংযম ও নৈতিকতা আনে।
৪. সামাজিক উন্নয়ন: শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ নীতির অনুশীলনের মাধ্যমে আদর্শ মানুষ, আদর্শ গৃহী গড়ে ওঠে। এ দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন ধর্মের ঐক্য প্রতিষ্ঠাতেও নন্দিত হচ্ছে।সুতরাং, ভালোবাসা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও আদর্শ জীবনচর্চার মাধ্যমে সৎসঙ্গ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও