ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
বিক্রয় ব্যবস্থাপক জনাব মুহিবুল্লাহ নিজের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সার্থকে অগ্রাধীকার দিয়ে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়ের কাজ বারে বারে সম্পাদন করতে হয়। তাই মুহিবুল্লাহ কে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, সে নগদে না বাকিতে পণ্য বিক্রয় করবে। অভিজ্ঞতার আলোকে পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে সে বাকিতে পণ্য বিক্রয় এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- ক)(1)
পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
একজন ব্যবস্থাপকের কারিগারি দক্ষতা কেন প্রয়োজন?
- গ)(3)
জনাব মুহিবুল্লাহ আচরণের ব্যবস্থাপনার কোন নীতিটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
জনাব মুহিবুল্লাহর বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ধরনের স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তার কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতে কী করা হবে, কখন করা হবে, কীভাবে করা হবে এবং কার দ্বারা করা হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করাকে পরিকল্পনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, পদ্ধতি বা কলাকৌশল ব্যবহারের বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতাকে কারিগরি দক্ষতা বলে।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের সরাসরি উৎপাদন বা পরিচালনা কাজের তদারকি করতে হয়। অধীনস্থ কর্মীরা কীভাবে কাজ করছে তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন, নির্দেশ প্রদান এবং কাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করার জন্য একজন ব্যবস্থাপকের কারিগরি দক্ষতা থাকা অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব মুহিবুল্লাহর আচরণে ব্যবস্থাপনার 'সাধারণ স্বার্থে নিজস্ব স্বার্থ বিসর্জন' (বা ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ অগ্রাধিকার) নীতিটি ফুটে উঠেছে।
হেনরি ফেয়লের ব্যবস্থাপনার ১৪টি নীতির মধ্যে অন্যতম হলো ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাতিষ্ঠানিক বা সমষ্টিগত স্বার্থের অধীন করা। এই নীতি অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিজের ব্যক্তিগত লাভ বা সুবিধার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক লক্ষ্য ও স্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া উচিত।
উদ্দীপকে বিক্রয় ব্যবস্থাপক জনাব মুহিবুল্লাহ কাজ করার সময় নিজের ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার এই আচরণ ফেয়লের নির্দেশিত 'সাধারণ স্বার্থে নিজস্ব স্বার্থ ত্যাগ' নীতিরই স্পষ্ট প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব মুহিবুল্লাহ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা হলো 'নীতি' (Policy), যা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা রক্ষা ও সুষ্ঠু পরিচালনায় অত্যন্ত কার্যকর।
স্থায়ী পরিকল্পনা হলো এমন পরিকল্পনা, যা প্রতিষ্ঠানে একবার গৃহীত হলে বারবার পরিবর্তিত না হয়ে দীর্ঘকাল ধরে অনুসৃত হতে থাকে। এর অন্যতম রূপ হলো 'নীতি'। নীতি হলো উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাধারণ নির্দেশিকা।
উদ্দীপকে জনাব মুহিবুল্লাহর প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়ের কাজ বারবার সম্পন্ন করতে হয়। বারবার যাতে সিদ্ধান্ত নিতে না হয়, সে জন্য তিনি পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে স্থায়ী গাইডলাইন হিসেবে 'বাকিতে পণ্য বিক্রয়'-এর একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত বা নীতি গ্রহণ করেন। এটি একটি স্থায়ী পরিকল্পনা।
এ ধরনের নীতির কার্যকারিতা অত্যন্ত ব্যাপক। প্রথমত, এটি ব্যবস্থাপকের বারবার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় অপচয় রোধ করে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বস্তি আনে। দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত অধস্তনরা ক্রেতাদের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায়, যা কাজে গতিশীলতা আনে। তৃতীয়ত, এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়ের পরিধি বৃদ্ধি পায় এবং সিদ্ধান্তহীনতার জটিলতা দূর হয়। তাই পরিবর্তিত পরিবেশ ও গ্রাহক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় জনাব মুহিবুল্লাহর গৃহীত এই নীতিমূলক স্থায়ী পরিকল্পনাটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও