ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
সৌমিত্র ও ইকবাল দুজনে প্রতিষ্ঠিত বড় ব্যবসায়ী। মি. সৌমিত্র বাকিতে ১০ লক্ষ টাকার মালামাল মি. ইকবালকে দেন। তিন মাসের মধ্যে মি. ইকবালের বাকির টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু মি. ইকবাল বাকিতে মি. সৌমিত্রের কাছ থেকে মালামাল নেওয়ার পর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। উপায়ন্ত না পেয়ে মি. সৌমিত্র আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত মি. ইকবালের ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে স্থগিতাদেশ জারি করেন।
- ক)(1)
ব্যাংকিং কী?
- খ)(2)
ব্যাংক ও ব্যাংকারের মধ্যে অর্থগত পার্থক্য নির্ণয় কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে আদালত মি. ইকবালের ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে যে ধরনের আদেশ জারি করেন তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
আদালতের মাধ্যমে মি. সৌমিত্র কি তার পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার আশা করতে পারেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত যাবতীয় বৈধ ও বিধিসম্মত অর্থনৈতিক কার্যাবলিকে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং (Banking) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাংক হলো একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কৃত্রিম ব্যক্তিস্বত্তাবিশিষ্ট সত্তা, যা অর্থ ও ঋণের ব্যবসা পরিচালনা করে এবং আমানত গ্রহণ ও ঋণদানের কাজ করে। অন্যদিকে, ব্যাংকার হলেন সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, যিনি বা যাঁরা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকেন বা ব্যাংকিং পেশায় নিয়োজিত থাকেন। অর্থাৎ, ব্যাংক হলো প্রতিষ্ঠান (আইনগত সত্তা) এবং ব্যাংকার হলেন সেই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা কর্মী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আদালত মি. ইকবালের ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে 'গার্নিশি আদেশ' (Garnishee Order) জারি করেছেন।
কোনো দেনাদারের কাছে পাওনাদারের পাওনা অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে আদালত যখন দেনাদারের ব্যাংকে রক্ষিত হিসাব বা জমাকৃত অর্থ অবরুদ্ধ বা স্থগিত করার জন্য ব্যাংকের ওপর যে নির্দেশ জারি করেন, তাকে গার্নিশি আদেশ বলে। এ আদেশ জারি হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক তার হিসাব থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করতে পারেন না এবং ব্যাংকও উক্ত হিসাবের লেনদেন স্থগিত রাখতে বাধ্য থাকে।
উদ্দীপকে মি. সৌমিত্র বাকিতে ১০ লক্ষ টাকার মালামাল মি. ইকবালকে দেন, যা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু ইকবাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। উপায় না পেয়ে মি. সৌমিত্র আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত মি. ইকবালের ব্যাংক হিসাবের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। আদালত কর্তৃক দেনাদারের ব্যাংক হিসাবের ওপর এ ধরনের স্থগিতাদেশই হলো গার্নিশি আদেশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আদালতের মাধ্যমে মি. সৌমিত্র তার পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার যুক্তিসংগত আশা করতে পারেন।
আইন অনুযায়ী, যখন কোনো পাওনাদার (Judgment Creditor) দেনাদারের (Judgment Debtor) কাছ থেকে পাওনা অর্থ উদ্ধারের জন্য আদালতের আশ্রয় নেন, তখন আদালত দেনাদারের ব্যাংক হিসাবের ওপর গার্নিশি আদেশ (Garnishee Order) জারি করতে পারেন। এই আদেশের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবটির লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত শুনানির মাধ্যমে দেনাদারের হিসাবে পর্যাপ্ত তহবিল থাকলে আদালত ব্যাংককে সরাসরি পাওনাদারের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারেন।
উদ্দীপকে মি. সৌমিত্র ইকবালকে ১০ লক্ষ টাকার পণ্য সরবরাহ করেছিলেন এবং ইকবাল তা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। সৌমিত্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ইকবালের ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে স্থগিতাদেশ বা গার্নিশি আদেশ জারি করেছেন। এর ফলে মি. ইকবাল ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নিতে পারবেন না। আদালত ইকবালের ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ থেকে সৌমিত্রের পাওনা দশ লক্ষ টাকা পরিশোধের আদেশ জারি করতে পারেন। যদি ইকবালের হিসাবে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকে, তবে ব্যাংক আদালতের নির্দেশে সৌমিত্রকে সরাসরি টাকা পরিশোধ করবে।
অতএব, যেহেতু আদালত আইনগত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন এবং অর্থ অবরুদ্ধ করেছেন, সেহেতু মি. সৌমিত্র আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার জোরালো ও বাস্তবসম্মত আশা করতে পারেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও