পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
রাজতন্ত্র কাকে বলে?
- খ)(2)
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
ছকে উল্লিখিত 'ক' সরকার সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
হকে উল্লিখিত 'ক' সরকার ও 'খ' সরকারের মধ্যকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা কোনো একক ব্যক্তির (রাজা বা রানি) হাতে ন্যস্ত থাকে এবং সাধারণত বংশানুক্রমিকভাবে হস্তান্তরিত হয়, তাকে রাজতন্ত্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে সরকারের প্রধান তিনটি বিভাগ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা এবং একজনের এখতিয়ারে অন্যজনের হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে বোঝায়।
ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর 'The Spirit of the Laws' গ্রন্থে এই তত্ত্বটি জনপ্রিয় করেন। এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব রোধ করা এবং নাগরিকদের ব্যক্তিliberty বা স্বাধীনতা রক্ষা করা। এর ফলে কোনো একক বিভাগের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন ঘটে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকে উল্লিখিত 'ক' সরকার হলো এককেন্দ্রীক সরকার (Unitary Government)।
যে শাসনব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের যাবতীয় শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং কেন্দ্র থেকেই সমগ্র দেশ পরিচালিত হয়, তাকে এককেন্দ্রীক সরকার বলে। উদ্দীপকে 'ক' সরকারের বৈশিষ্ট্য হিসেবে জাতীয় সংহতি, রাষ্ট্রীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের উপযোগী হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা এককেন্দ্রীক সরকারের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য।
এককেন্দ্রীক সরকারব্যবস্থায় কোনো স্বায়ত্তশাসিত বা ক্ষমতাশালী প্রাদেশিক সরকার থাকে না। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য দেশকে বিভিন্ন অঞ্চলে বা বিভাগে ভাগ করা হলেও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলো কেবল কেন্দ্রের অর্পিত ক্ষমতাই প্রয়োগ করে। এ ব্যবস্থায় একক আইনসভা ও একক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় আইন ও নীতির অভিন্নতা রক্ষা পায়। ফলে এটি ক্ষুদ্র ভূখণ্ড ও একক জাতীয়তাবোধসম্পন্ন রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ও কার্যকর।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত 'ক' সরকার হলো এককেন্দ্রীক সরকার এবং 'খ' সরকার হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার (Federal Government)। নিচে এদের মধ্যকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. ক্ষমতার বণ্টন: এককেন্দ্রীক সরকারব্যবস্থায় সংবিধান কর্তৃক রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা একক কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। পক্ষান্তরে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশগুলোর (অঙ্গরাজ্য) মধ্যে সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়।
২. রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি ও উপযোগিতা: এককেন্দ্রীক সরকার ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার দিক থেকে ক্ষুদ্র এবং সমজাতীয় রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে উপযোগী। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বৃহৎ আয়তন এবং ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্য বেশি উপযোগী।
৩. সংহতি ও স্বায়ত্তশাসন: এককেন্দ্রীক সরকার কঠোরভাবে জাতীয় সংহতি ও রাষ্ট্রীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে, কিন্তু এতে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন থাকে না বললেই চলে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য রক্ষা করে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সৃষ্টি করে।
৪. সংবিধানের প্রকৃতি: এককেন্দ্রীক সরকারের সংবিধান লিখিত বা অলিখিত এবং সুপরিবর্তনীয় বা দুষ্পরিবর্তনীয় হতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সংবিধান অবশ্যই লিখিত ও সাধারণত দুষ্পরিবর্তনীয় হয়, যাতে কেন্দ্র বা প্রদেশ কেউই এককভাবে সংবিধান পরিবর্তন করতে না পারে।
৫. স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশ: এককেন্দ্রীক সরকারে কেন্দ্রনির্ভরতার কারণে স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশ সীমিত। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে আঞ্চলিক সরকারের অস্তিত্ব থাকায় তৃণমূল ও স্থানীয় নেতৃত্বের দ্রুত ও কার্যকর বিকাশ ঘটে।
পরিশেষে বলা যায়, উভয় সরকারের নিজস্ব কার্যকারিতা রয়েছে; রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও পরিস্থিতির ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে এদের প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও