‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলে দুটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। যদিও রাষ্ট্র দুটি সৃষ্টি হয় জাতীয়তার একটি বিশেষ উপাদানকে ভিত্তি করে। তবে কোনো রাষ্ট্র সৃষ্টিতেই ওই একটি উপাদান যথেষ্ট নয়।

  1. ক)

    জাতীয়তার সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক অধিকার বলতে কি বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্র দুটি সৃষ্টিতে জাতীয়তার যে উপাদনটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সর্বশেষ বাক্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয়তা হলো মূলত একটি মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি, যা একদল মানবগোষ্ঠীকে অন্যান্য জনসমাজ থেকে পৃথক করে একসূত্রে ঐক্যবদ্ধ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক অধিকার বলতে নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সেইসব অধিকারকে বোঝায়, যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানে স্বীকৃত ও সংরক্ষিত থাকে। রাষ্ট্র কর্তৃক এই অধিকারগুলো অলঙ্ঘনীয় এবং বিচার বিভাগের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে মুক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র দুটি সৃষ্টিতে জাতীয়তার যে উপাদানটি ফুটে উঠেছে, তা হলো 'ধর্মগত ঐক্য' বা ধর্মীয় উপাদান।

    ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসানের পর ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি সৃষ্টির মূলভিত্তি ছিল ঐতিহাসিক 'দ্বিজাতি তত্ত্ব', যা ধর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তৎকালীন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের ভিত্তিতে পাকিস্তান এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের ভিত্তিতে ভারত রাষ্ট্র গঠিত হয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য ও স্বাতন্ত্র্যবোধ তৈরির দিকটি স্পষ্ট হয়েছে। ধর্ম মানুষের আবেগ ও অনুভূতির সাথে গভীরভাবে জড়িত থাকায় ব্রিটিশ ভারতে এই ধর্মীয় পরিচয় জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছিল। ফলে ধর্মের পার্থক্যের কারণে একই ভূখণ্ডের মানুষ নিজেদের পৃথক জাতি হিসেবে ভাবতে শুরু করে এবং আলাদা রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সর্বশেষ বাক্যটি হলো—"তবে কোনো রাষ্ট্র সৃষ্টিতেই ওই একটি উপাদান যথেষ্ট নয়"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।

    জাতীয়তা গঠনে এবং স্থায়ী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কেবল একটি উপাদান, যেমন—ধর্মগত ঐক্য, কখনোই এককভাবে চূড়ান্ত হতে পারে না। রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখা এবং সুসংহত জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে ভৌগোলিক নৈকট্য, ভাষাগত ঐক্য, সাংস্কৃতিক মিল, ঐতিহাসিক পটভূমি এবং অর্থনৈতিক সংহতি অপরিহার্য।

    ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু ভৌগোলিক দূরত্ব (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে প্রায় ১২০০ মাইলের ব্যবধান), ভাষার বৈষম্য, সাংস্কৃতিক ভিন্নতা এবং পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণ কেবল ধর্মের বন্ধন দিয়ে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে ধর্মভিত্তিক একতাবোধ বাঙালি জাতিকে এক রাখতে পারেনি; বরং ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।

    এরই চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানের কাঠামো ভেঙে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

    অতএব, কোনো একটি মাত্র উপাদান (যেমন ধর্ম) দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কোনো রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখা যায় না; একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের জন্য বহুবিধ অনুকূল উপাদানের পারস্পরিক সংমিশ্রণ একান্ত প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন