ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

ড. আবুল হাসান বলেন যে, ৮০ হিজরীতে কুফায় একজন বিখ্যাত মনীষী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৪০ জন ফকিহ শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সম্পাদনা পরিষদ গঠন করেন। এই পরিষদ ৮৩ হাজার মাসআলা সম্বলিত একটি অনন্য গ্রন্থ রচনা করে। তার এ বক্তব্য শোনার পর ড. আশরাফ বলেন, “তাদের গবেষণা কাজ মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে ইসলামি শরিয়াহ চর্চাকে সহজতর করেছে।

  1. ক)

    প্রসিদ্ধ মাযহাব কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    “শয়তানের নিকট হাজার আবেদের চেয়ে একজন ফকিহ বেশি শক্তিশালী”—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ড. আবুল হাসান কোন মনীষীর কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ড. আশরাফের বক্তব্যের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট ফিকহশাস্ত্রের প্রসিদ্ধ মাযহাব চারটি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাদিসে বলা হয়েছে: "শয়তানের নিকট এক হাজার আবেদের চেয়ে একজন ফকিহ (ইসলামি আইনজ্ঞ) বেশি শক্তিশালী বা কঠিন" (জামে তিরমিযী ও সুনানে ইবনে মাজাহ)।

    এর কারণ হলো, একজন সাধারণ আবেদ কেবল নিজের ইবাদতে মগ্ন থাকেন, কিন্তু গভীর ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে শয়তান তাকে খুব সহজেই বিভিন্ন সংশয় বা বিভ্রান্তিতে ফেলে পথভ্রষ্ট করতে পারে। পক্ষান্তরে, একজন ফকিহ বা বিজ্ঞ আলিম শরিয়াহর গভীর জ্ঞান রাখেন। ফলে শয়তান যখন সমাজে কোনো বিদআত বা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, ফকিহ তা চিহ্নিত করে প্রতিরোধ করেন এবং উম্মাহকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। তাই শয়তান ফকিহকে বেশি ভয় পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ড. আবুল হাসান বিখ্যাত ফকিহ ও তাবেয়ি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর কথা বলেছেন।

    ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর আসল নাম নোমান ইবনে সাবিত। তিনি ৮০ হিজরীতে ইরাকের কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম ও ফকিহ। তিনি ইসলামি আইন প্রণয়ন ও গবেষণার জন্য তাঁর যোগ্যতম ৪০ জন ফকিহ ছাত্রের সমন্বয়ে একটি ঐতিহাসিক আইন সম্পাদনা পরিষদ গঠন করেছিলেন। এই পরিষদ দীর্ঘ গবেষণা ও আলোচনার মাধ্যমে মানবজীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কিত প্রায় ৮৩ হাজার মাসআলা সম্বলিত ফিকহি বিধান লিপিবদ্ধ ও সংকলন করে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ৮০ হিজরীতে কুফায় জন্ম, ৪০ জন ফকিহ নিয়ে সম্পাদনা পরিষদ গঠন এবং ৮৩ হাজার মাসআলা সংকলনের বিবরণ সম্পূর্ণভাবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর জীবনী ও কর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং, ড. আবুল হাসান তাঁর বক্তব্য দ্বারা ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-কেই নির্দেশ করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ড. আশরাফের বক্তব্যটি—"তাদের গবেষণা কাজ মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে ইসলামি শরিয়াহ চর্চাকে সহজতর করেছে"—যথাযথ ও অত্যন্ত যৌক্তিক।

    ইসলামি শরিয়াহর মূল ভিত্তি হলো কুরআন ও সুন্নাহ। তবে যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে মানবজীবনে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যা ও পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতি থেকে উদ্ভূত গবেষণার (ইজতিহাদ ও কিয়াস) মাধ্যমে এসব সমস্যার বাস্তব সমাধান বের করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং তাঁর ৪০ জন বিজ্ঞ ফকিহ শিষ্যের সমন্বয়ে গঠিত আইন পরিষদ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানবজীবনের খুঁটিনাটি বিষয়ের সমাধান বের করে ইসলামি ফিকহকে একটি সুসংগঠিত কাঠামো দান করেন।

    তাঁদের এই যৌথ গবেষণার ফলে মুসলমানদের ইবাদত, লেনদেন, পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়াদিসহ প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় বিধানাবলি স্পষ্ট ও শ্রেণিবদ্ধ হয়। এর মাধ্যমে ইসলামের বিধান পালন সাধারণ মানুষের জন্য সহজসাধ্য ও বিভ্রান্তিমুক্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের এই অনবদ্য কাজের ফলেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইসলামি বিচারব্যবস্থা ও সমাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। সুতরাং, তাঁদের গবেষণা মুসলমানদের দৈনন্দিন শরিয়াহ পালনে যে অনন্য সহজতা ও দিকনির্দেশনা এনে দিয়েছিল, সে দিক বিবেচনায় ড. আশরাফের মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন