পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেও বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে বঙ্গোপসাগরের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ মিটাতে পারেনি। অবশেষে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এ, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমুদ্রসীমা বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে যায়। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ১৪ মার্চ ২০১২ তারিখে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে। তাতে বাংলাদেশের অধিকার অর্জিত হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আশা করেন যে, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গেই শান্তিপূর্ণ উপায়ে যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
- ক)(1)
কমনওয়েলথ গঠিত হয় কত সালে?
- খ)(2)
সার্কের উদ্দেশ্য কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে মিয়ানমারের সাথে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনুসৃত বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আশাবাদ পূরণ করা কীভাবে সম্ভব? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কমনওয়েলথ ১৯৩১ সালে (বর্তমান আধুনিক কমনওয়েলথ ১৯৪৯ সালে লন্ডন ঘোষণার মাধ্যমে) গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সার্কের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। একই সাথে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, সমঝোতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির 'সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়' এবং 'আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি' নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বদা অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে বিশ্বাস রাখবে। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে প্রায় ৩৮ বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে সমাধান না হওয়ায় কোনো শক্তি প্রয়োগ বা যুদ্ধে না গিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সমুদ্রসীমা বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে (ITLOS) যায়।
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায় মেনে নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে বৈদেশিক সমস্যা সমাধানে বদ্ধপরিকর। এটি বাংলাদেশের শান্তিকামী পররাষ্ট্রনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আশাবাদ পূরণ করা সম্ভব পারস্পরিক সংলাপ, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে। নিম্নে আমার মতামত তুলে ধরা হলো:
১. আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা: রাষ্ট্রগুলোর উচিত জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত বা রায় মেনে চলা। মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির মতো ঘটনা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বিরোধ নিষ্পত্তির একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর মাধ্যম।
২. গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতি: যে কোনো সংকট সমাধানে আগ্রাসী মনোভাব পরিহার করে গঠনমূলক সংলাপ ও আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে। মধ্যস্থতা, সালিশি ইত্যাদির মাধ্যমে জটিল রাজনৈতিক সংকটও সমাধানযোগ্য।
৩. সংঘাতের বিকল্প হিসেবে শান্তির পথ বেছে নেওয়া: যুদ্ধ বা আগ্রাসন কোনো টেকসই সমাধান আনে না, বরং ধ্বংস বয়ে আনে। তাই আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
সুতরাং, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো সংকটের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করে প্রধানমন্ত্রীর এই আশাবাদ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও