বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ঢাকার ছয় জায়গায় গ্রেনেড ফেটেছে, আমরা তো সাত-আটদিন আগে এরকম বোমা। ফাটার কথা শুনেছিলাম, কিন্তু ঠিক বিশ্বাস করিনি। আমার সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠল। ব্যাপারটা তাহলে সত্যি সত্যি সত্যি তাহলে ঢাকার আনাচে-কানাচে মুক্তিফৌজের গেরিলারা প্রতিঘাতের ছোট ছোট স্ফুলিঙ্গ জ্বালাতে শুরু করেছে? এতদিন জানতাম বর্ডারঘেঁষা অঞ্চলগুলোতেই গেরিলা তৎপরতা। এখন তাহলে খোদ ঢাকাতেও?
- ক)(1)
কার জন্য নুরুলহুদাকে এক্সট্রা তটস্থ থাকতে হয়?
- খ)(2)
"মনে হচ্ছে যেন বৃষ্টি পড়ছে রেইনকোটের উপর" কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের কোন দিকটির ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিঘাতের ছোট ছোট স্ফুলিঙ্গ এক সময় দাবানলে রূপ নেয়।”—উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রিন্সিপালের জন্য নুরুলহুদাকে এক্সট্রা তটস্থ থাকতে হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মনে হচ্ছে যেন বৃষ্টি পড়ছে রেইনকোটের উপর"—কথাটি পাকিস্তানি মিলিটারির নির্মম প্রহারের তীব্র অনুভূতি ও নুরুলহুদার মানসিক অবিচলতা বোঝাতে বলা হয়েছে।
পাকিস্তানি সেনারা নুরুলহুদাকে ঝুলিয়ে চাবুক মারছিল। প্রতিটি চাবুকের আঘাত তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি করছিল, কিন্তু শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট গায়ে থাকায় সে মুক্তিযোদ্ধার সাহস ও দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত হয়ে পড়ে। ফলে চাবুকের সেই প্রচণ্ড আঘাতগুলোকে তার কাছে নিছক বৃষ্টির ফোঁটার মতো মনে হচ্ছিল, যা তার শারীরিক কষ্টকে ছাপিয়ে আত্মিক শক্তিকে তুলে ধরে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত ১৯৭১ সালে খোদ ঢাকা শহরে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণের বিস্তার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার প্রভাবের দিকটির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, ঢাকার বুকে গেরিলাদের তৎপরতা শুরু হয়েছিল। ঢাকা কলেজের সামনে মিলিটারিদের গাড়িতে গেরিলা আক্রমণ এবং ইলেকট্রিক ট্রান্সফর্মার উড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। উদ্দীপকেও ঢাকার ছয়টি জায়গায় গ্রেনেড বিস্ফোরণের কথা শুনে সাধারণ মানুষের রোমাঞ্চিত হওয়া এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিঘাতের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছে।
উদ্দীপক ও গল্পের এই অভিন্ন দিকটি হলো—গেরিলাদের ঢাকা আক্রমণের বাস্তবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করে এবং পাকিস্তানি হানাদারদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিঘাতের ছোট ছোট স্ফুলিঙ্গ এক সময় দাবানলে রূপ নেয়"—উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের প্রেক্ষাপটে মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শুরুতে গেরিলা তৎপরতা প্রধানত সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে মুক্তিযোদ্ধারা শক্তিবৃদ্ধি করে এবং খোদ ঢাকা শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে আক্রমণ চালাতে শুরু করে। উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, ঢাকার আনাচে-কানাচে মুক্তিফৌজের গেরিলারা গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে প্রতিঘাতের যে স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আলোড়ন তোলে।
'রেইনকোট' গল্পেও দেখা যায়, ঢাকা কলেজের মতো সুরক্ষিত এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা দুঃসাহসিক গেরিলা অপারেশন চালিয়ে ট্রান্সফর্মার উড়িয়ে দেয়। এই ছোট ছোট গেরিলা আক্রমণগুলো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, নুরুলহুদার মতো একজন সাধারণ ও ভিতু শিক্ষকও মুক্তিযোদ্ধাদের সংস্পর্শে (প্রতীকীভাবে রেইনকোটের মাধ্যমে) এসে সাহসী হয়ে ওঠেন এবং মিলিটারির নির্মম অত্যাচারের মুখেও মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা প্রকাশ না করে নিজের দেশপ্রেম প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের এই মানসিক রূপান্তর ও গেরিলাদের আক্রমণ একত্রিত হয়েই এক অপ্রতিরোধ্য দাবানলে পরিণত হয়, যা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে চূড়ান্ত পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেয়।
সুতরাং, ঢাকার বুকে গেরিলাদের প্রাথমিক ছোট ছোট আক্রমণগুলোই পরবর্তীতে সামগ্রিক বিজয়ের রূপ নিয়েছিল—এ দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচ্য মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও