হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
বাঁধন বাবু এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয় ও একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ কারণে তাদের এলাকায় প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। এলাকার মানুষ এজন্য তাকে খুব প্রশংসা করে। তিনিও এসবের মধ্যেই বেঁচে থাকতে চান। কিন্তু তার ভাই রমেশ বাবুর এসবের দিকে খেয়াল নেই। তিনি প্রতি বছর বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি সব ধর্ম ও বর্ণের লোককে নিমন্ত্রণ করেন। এ সময় তার বাড়িতে একটি মিলন মেলার সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
স্বামী বিবেকানন্দ কার নিকট ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষিত হন?
- খ)(2)
'সত্যই সকল ধর্মের ভিত্তি'- বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
বাঁধন বাবুর মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের কোন গুণটি লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রমেশ বাবুর মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের অসাম্প্রদায়িক চেতনারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে'- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
স্বামী বিবেকানন্দ শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষিত হন।
- খ)
সত্য মানে যা যথার্থ ও অপরিবর্তনীয়। কোনো ধর্ম সত্যকে ছাড়া টেকে না, কারণ সৎ হওয়া ও সৎ কর্ম করা ধর্মের অঙ্গ।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, সব ধর্মের ভিত্তি এক এবং তা হলো সত্য। অথর্ববেদ অনুযায়ী অসত্য নয়, সত্যেরই জয় হয় এবং সত্যের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর লাভের পথ প্রসারিত হয়। - গ)
বাঁধন বাবুর মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের নারীশিক্ষা ও নারী-স্বাধীনতায় সমর্থন গুণটি লক্ষ করা যায়।
পাঠ্যবই অনুযায়ী বিবেকানন্দ নারী-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং নারীশিক্ষাকে সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করতেন। বৈদিক যুগের মৈত্রেয়ী, গার্গী প্রমুখ বিদুষী নারীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, সে যুগে নারীরা শিক্ষা পেলে এ যুগের নারীরা পারবে না কেন। তাঁর মতে, নারীদের অবস্থার উন্নতি না করে বিশ্বের মঙ্গল সম্ভব নয়, কারণ কোনো পাখি একটি ডানা নিয়ে উড়তে পারে না। তিনি শিক্ষার মাধ্যমে নারীকে স্বাবলম্বী করার কথাও বলেছেন।
মিল: বাঁধন বাবু এলাকায় বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করে নারীশিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছেন। এতে তাদের এলাকার প্রভূত উন্নতি হয়েছে এবং মানুষ তাঁর প্রশংসা করে। এটি বিবেকানন্দের নারীশিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নের আদর্শেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ। রমেশ বাবুর কাজে স্বামী বিবেকানন্দের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে।
বিবেকানন্দ ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে শিকাগোর বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বলেছিলেন, হিন্দুধর্ম সকল ধর্মকে সমান সত্য মনে করে। নদীসমূহ যেমন এক সাগরে মিলিত হয়, তেমনি সকল ধর্মের লক্ষ্য এক- ঈশ্বরলাভ। তিনি বিবাদ নয়, সহায়তা; বিনাশ নয়, পরস্পরের ভাবগ্রহণ; মতবিরোধ নয়, সমন্বয় ও শান্তির কথা বলেছেন।
১. সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে আমন্ত্রণ: রমেশ বাবু প্রতি বছর বাড়ির অনুষ্ঠানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে নিমন্ত্রণ করেন। এটি বিবেকানন্দের মতো ভেদাভেদহীন দৃষ্টিভঙ্গি।
২. জাতিভেদের বিরোধিতা: বিবেকানন্দ জাতিভেদে বিশ্বাস করতেন না। নিচু জাতি, দরিদ্র, মুচি, মেথর সবাইকে ভাই বলতেন। রমেশ বাবুর অনুষ্ঠানেও ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণের কোনো বাধা নেই।
৩. মিলনের পরিবেশ: বিবেকানন্দ মানুষের বিভেদ ভুলে এক হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। রমেশ বাবুর বাড়িতে সৃষ্ট মিলন মেলা সেই ঐক্য ও সম্প্রীতির উদাহরণ।
৪. সীমাবদ্ধতা: উদ্দীপকে রমেশ বাবুর শুধু একটি অনুষ্ঠানের কথা আছে। কিন্তু বিবেকানন্দ বিশ্বমঞ্চে সব ধর্মের সমন্বয়ের আদর্শ প্রচার করেছেন এবং রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করে সেবা দিয়েছেন। তবু মূল চেতনাটি একই।সুতরাং, রমেশ বাবুর মধ্যে বিবেকানন্দের অসাম্প্রদায়িক চেতনারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও