ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. আসাদ একজন অল্প শিক্ষিত কৃষক। তিনি এলাকায় ১০০ জন কৃষককে সংগঠিত করে নিজেদের কল্যাণ সাধনের জন্য ব্যবসায় গড়ে তোলেন। এখানে প্রত্যেক সদস্য কৃষক। প্রতি সপ্তাহে ১০০ টাকা করে জমা রাখে। নিজেরা ঋণ নেয়, জমাকৃত অর্থের কিছু অংশ বিনিয়োগ করেন। তারা এ ক্ষেত্রে কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করে ও উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রয় করেন। তারা ২০২২ সালে ১,০০,০০০ টাকা মুনাফা করে ৮২, ০০০ হাজার টাকার লভ্যাংশ হিসেবে বন্টনের সিদ্ধান্ত নেয়।

  1. ক)

    সমবায় সংগঠনের সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যা কতজন?

    (1)
  2. খ)

    সমবায়কে স্বল্পবিত্ত সম্পন্ন মানুষের সংগঠন বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    মি. আসাদের সমবায় প্রতিষ্ঠানটি সদস্যদের প্রকৃতি বিচারে কোন ধরনের?- ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "লভ্যাংশ বন্টনের সিদ্ধান্ত সমবায়ের বৈশিষ্ট্য বিচারে যথার্থ হয়েছে"- বক্তব্যের যথার্থতা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ২০০১ সালের বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী প্রাথমিক সমবায় সংগঠনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যা ২০ জন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বল্প পুঁজি ও সীমিত আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমবায় গঠিত হয় বলে একে স্বল্পবিত্ত সম্পন্ন মানুষের সংগঠন বলা হয়।

    পুঁজিবাদী সমাজে সাধারণ ও দরিদ্র পেশাজীবীরা পুঁজিপতিদের দ্বারা শোষিত ও বঞ্চিত হন। তাই নিজেদের স্বাবলম্বী করতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অভাব দূর করতে স্বল্পবিত্ত ও সমমনা ব্যক্তিরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় একত্র করে সমবায় সমিতি গড়ে তোলেন। তাই এটি মূলত স্বল্পবিত্তদের সংগঠন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সদস্যদের পেশাগত বা কর্মের প্রকৃতি বিচারে মি. আসাদের সমবায় প্রতিষ্ঠানটি একটি 'কৃষক সমবায় সমিতি'।

    একই অর্থনৈতিক শ্রেণিভুক্ত বা সমপেশার মানুষ যখন নিজেদের পেশাগত উন্নয়ন ও আর্থিক স্বার্থরক্ষায় সমবায় গড়ে তোলেন, তখন তাকে সদস্যদের প্রকৃতি অনুযায়ী নামকরণ করা হয়। যেমন—কৃষকদের স্বার্থে গড়ে তোলা সংগঠন হলো কৃষক সমবায় সমিতি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. আসাদ এলাকার ১০০ জন কৃষককে সংগঠিত করে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। এখানে প্রতিটি সদস্যই কৃষক এবং তাঁরা কৃষিকাজের উপকরণ সংগ্রহ, ঋণ গ্রহণ ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য যৌথভাবে বিক্রয়ের কাজ করেন। অতএব, সদস্যদের প্রকৃতি অনুযায়ী এটি একটি কৃষক সমবায় সমিতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে গৃহীত লভ্যাংশ বণ্টনের সিদ্ধান্তটি সমবায়ের আইন ও নীতিমালার বিচারে যথার্থ হয়নি।

    বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইনানুযায়ী, কোনো সমবায় সমিতি অর্জিত নিট মুনাফার সম্পূর্ণ অংশ সদস্যদের মাঝে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করতে পারে না। আইনের বিধান মতে, অর্জিত নিট মুনাফার কমপক্ষে ১৫% সংরক্ষিত তহবিলে এবং ৩% সমবায় উন্নয়ন তহবিলে (মোট ন্যূনতম ১৮%) বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখতে হয়। ফলে অবশিষ্ট সর্বোচ্চ ৮২% অংশ লভ্যাংশ হিসেবে সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা বৈধ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০২২ সালে সমিতিটি ১,০০,০০০ টাকা মুনাফা অর্জন করে এবং তার মধ্যে ৮২,০০০ টাকা (যা মোট মুনাফার ৮২%) লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে সংরক্ষিত তহবিল (কমপক্ষে ১৫,০০০ টাকা) এবং সমবায় উন্নয়ন তহবিলে (৩,০০০ টাকা) অর্থ স্থানান্তরের কোনো উল্লেখ করা হয়নি। আইন অনুযায়ী এই সংবিধিবদ্ধ তহবিলগুলোতে বাধ্যতামূলক অর্থ স্থানান্তর নিশ্চিত না করে সরাসরি পুরো ৮২% অর্থ বণ্টন করা সমবায়ের নিয়মনীতি ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

    অতএব, প্রয়োজনীয় আইনি তহবিল সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার স্পষ্ট প্রতিফলন না থাকায় লভ্যাংশ বণ্টনের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি আইনসম্মত ও যথার্থ হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন