‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' রাষ্ট্রের সরকার মাত্র ৩ ভাগ লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রের একমাত্র মাতৃভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জনগণ আন্দোলনে নামে এবং জীবন দিয়ে তা প্রতিরোধ করে।

  1. ক)

    ছয়দফা কী?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তফ্রন্ট বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো ঐতিহাসিক আন্দোলনের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলন স্বাধীনতার সূত্রপাত করে- বিশ্লেষণ। করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছয় দফা হলো ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসন ও মুক্তির সনদ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উত্থাপিত ঐতিহাসিক দাবি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মুসলিম লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গঠিত প্রধান বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত রাজনৈতিক মোর্চাকে বোঝায়। আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল—এই চারটি দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এটি গঠিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬ শতাংশের মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মাত্র ৩ থেকে ৭ শতাংশ মানুষের ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রেও মাত্র ৩ ভাগ লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা এবং তার বিরুদ্ধে জনগণের সোচ্চার হওয়ার মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

    ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। রক্তের বিনিময়ে বাঙালি তার ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে। উদ্দীপকের 'জীবন দিয়ে প্রতিরোধ করার' চিত্রটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের সাথেই হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষা আন্দোলনই ছিল মূলত বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ভিত্তি ও সূত্রপাত—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা শুরুতেই বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি উপলব্ধি করে যে, ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি সম্ভব নয়। এই আন্দোলন বাঙালির মনে প্রথম বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়।

    ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের ফলেই পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জিত হয়। এই ধারাবাহিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

    সুতরাং, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন শুধু মাতৃভাষার মর্যাদাই রক্ষা করেনি, বরং তা বাঙালিকে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাই বলা যায়, ভাষা আন্দোলনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রপাত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন