ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাক কুয়েত আক্রমণ করলে বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত হয়। কুয়েত হতে হাজার হাজার শরণার্থী এ সময় পার্শ্ববর্তী দেশ তুরস্ক ও জর্ডানে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইরাক অস্ত্র বিরতিতে সম্মত হয়। তবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় প্রচুর ধনসম্পদ, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো।
- ক)(1)
জর্জ হ্যারিসন কে ছিলেন?
- খ)(2)
ভেটো ক্ষমতা বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তুরস্ক ও জর্ডানে কুয়েতি শরণার্থীদের আশ্রয় নেয়ার সাথে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাঙালিদের কোথায় আশ্রয় নেয়ার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকাকে তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জর্জ হ্যারিসন ছিলেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীতদল 'দ্য বিটলস'-এর অন্যতম প্রধান সদস্য, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সমর্থনে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ঐতিহাসিক 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর আয়োজন করেছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন) যে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে তা বাতিল বা স্থগিত করার বিশেষ অধিকারকে 'ভেটো' (Veto) ক্ষমতা বলে। ল্যাটিন শব্দ 'ভেটো' অর্থ 'আমি মানি না'। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাবে একজন স্থায়ী সদস্যও যদি ভেটো দেয়, তবে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তুরস্ক ও জর্ডানে কুয়েতি শরণার্থীদের আশ্রয় নেওয়ার সাথে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এক কোটি বাঙালির ভারতে আশ্রয় নেওয়ার সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত নির্মম গণহত্যা ও বর্বর নির্যাতনের মুখে আত্মরক্ষার জন্য প্রায় এক কোটি বাঙালি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ভারত সরকার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিশাল সংখ্যক শরণার্থীকে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ এবং নিরাপত্তা প্রদান করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকি আক্রমণের ফলে কুয়েতের হাজার হাজার নাগরিক জীবন বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী দেশ তুরস্ক ও জর্ডানে আশ্রয় নেয়। যুদ্ধজনিত কারণে মাতৃভূমি ত্যাগ করে প্রতিবেশী দেশে প্রাণরক্ষার্থে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণের এই বাস্তবতাই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাঙালিদের ভারতে আশ্রয়ের ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল মূলত বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূ-রাজনীতি এবং স্বার্থের দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ ও হতাশাজনক, তবে মানবিক দিক থেকে তা ছিল ইতিবাচক।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপিত হলে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালায়, যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নস্যাৎ করা। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন নিরাপত্তা পরিষদে পরপর তিনবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে যুদ্ধবিরতির এ প্রচেষ্টা রুখে দেয় এবং বাঙালিদের ন্যায়সঙ্গত মুক্তি সংগ্রামের পক্ষাবলম্বন করে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদ কোনো কার্যকর একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। সাধারণ পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গৃহীত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় ভারত তা উপেক্ষা করতে সক্ষম হয়।
তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতার পাশাপাশি জাতিসংঘ উদ্বাস্তু ও সাধারণ শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণ সহায়তা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করেছিল। সার্বিক মূল্যায়নে বলা যায়, বৃহৎ শক্তিবর্গের স্নায়ুযুদ্ধ ও স্বার্থের সংঘাতের কারণে জাতিসংঘ রাজনৈতিকভাবে বাঙালি জাতিকে স্বাধীন করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেনি, কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে মানবিক সংকট তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও