বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

জান না কি তুমি, রে বেঈমান আল্লাহ সর্বশক্তিমান দেখিছেন তোর সবকিছু?জাব্বা জোব্বা দিয়ে ধোঁকা দিবি আল্লারে, ওরে বোকা কেয়ামতে হবে মাথা নিচু।

  1. ক)

    কে জমিলাকে প্রথম মজিদকে দেখায়?

    (1)
  2. খ)

    "গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ।"- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বেঈমান 'লালসালুর' কোন চরিত্রটিকে ইঙ্গিত করে- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'লালসালুর' কোন দিকটি উদ্দীপকের সাথে সম্পর্কযুক্ত- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জমিলাকে প্রথম মজিদকে দেখায় তার (জমিলার) আম্মা অর্থাৎ রহিমা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ" বলতে মহব্বতনগর গ্রামের সাধারণ মানুষের অন্ধবিশ্বাস, সরলতা ও মজিদের প্রতি পরম আনুগত্যকে বোঝানো হয়েছে।

    রহিমা যেমন মজিদকে গভীরভাবে ভয় পায়, তার আধ্যাত্মিক ক্ষমতাবলে অন্ধ বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নিঃশর্তভাবে তার নির্দেশ মেনে চলে; গ্রামের সাধারণ ধর্মভীরু মানুষগুলোও ঠিক একইভাবে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও মজিদের দ্বারা পুরোপুরি প্রভাবিত। তারা মজিদের কোনো কথাকে প্রশ্ন করে না, বরং ভয়ে ও শ্রদ্ধায় আনুগত্য প্রকাশ করে। এই কারণে তাদের রহিমারই রূপ বা প্রতিচ্ছবি বলা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'বেঈমান' 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদকে ইঙ্গিত করে।

    'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদ নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ, বৈষয়িক প্রতাপ ও প্রতিপত্তি লাভের উদ্দেশ্যে ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সে এক অখ্যাত কবরে লালসালু কাপড় জড়িয়ে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বানিয়ে ধর্মভীরু ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে প্রতারিত করে। বাইরে ধার্মিকতার ভেক ধরলেও অন্তরে সে ছিল পুরোপুরি স্বার্থপর ও কপট।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মানুষ মুখে লম্বা জাব্বা-জোব্বা পরিধান করে আল্লাকে ধোঁকা দিতে পারবে না এবং আখেরাতে তার শাস্তি হবে। উপন্যাসে মজিদও তেমনি ধর্মীয় লেবাস ও ভণ্ডের আশ্রয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে চলেছে। ধর্মব্যবসার মাধ্যমে আল্লাহর নামকে স্বার্থসিদ্ধির কাজে ব্যবহারের এই কপট চরিত্রের সাথেই উদ্দীপকের 'বেঈমান' চরিত্রের ইঙ্গিতবাহী সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'লালসালু' উপন্যাসের ধর্মব্যবসা, কপট ভণ্ডামি এবং ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে মানুষের সাথে প্রতারণা করার দিকটি উদ্দীপকের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।

    উপন্যাসে লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ দেখিয়েছেন কীভাবে ধর্মব্যবসায়ী মজিদ ধর্মের প্রতীকী লেবাস ও বেশভূষা ব্যবহার করে গ্রামীণ সমাজের সহজ-সরল মানুষকে ঠকিয়ে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি কায়েম করে। খোদার ভয় দেখিয়ে সে গ্রামবাসীকে শাসন ও শোষণ করে। অথচ তার নিজের মনেই ছিল খোদাভীতির চেয়ে বেশি দুনিয়াদারি হারানোর ভয়।

    উদ্দীপকেও ধর্ম নিয়ে ভণ্ডামি করা মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, জাব্বা-জোব্বা পরে কিংবা বাইরের আলখেল্লা দেখিয়ে আল্লাহকে ধোঁকা দেওয়া যায় না। আল্লাহ সর্বজ্ঞ এবং কেয়ামতের দিন এমন কপট ধর্মব্যবসায়ীদের মাথা নত হতে হবে। 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের ভেতরেও অপরাধবোধ ও ভয়ের নানা দোলাচল তৈরি হয়, যা উদ্দীপকের সতর্কবার্তার প্রতিধ্বনি। সুতরাং, বাহ্যিক ধর্মীয় লেবাস ধারণ করে ধর্মকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার ও প্রতারণার দিকটিই উদ্দীপক ও উপন্যাসের মূল ভাবগত সংযোগ নির্দেশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন