বাংলা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

যে-কোনো একটি বিষয় করো :

11.1.

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।

11.2.

'স্বনির্ভরতার জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ চাই' শিরোনামে একটি খুদেগল্প রচনা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১১.১ কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:

স্থান: বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ
চরিত্র: তৌফিক ও ফারহান (উভয়েই দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী)

তৌফিক: শুভ অপরাহ্ন ফারহান! কেমন আছিস?
ফারহান: শুভ অপরাহ্ন! ভালো আছি। কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ভাবছি।
তৌফিক: কী বিষয় নিয়ে ভাবছিস?
ফারহান: এসএসসি পরীক্ষার পর আমাদের ভবিষ্যৎ পড়াশোনা নিয়ে। প্রথাগত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রতি আজকাল এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কেন?
তৌফিক: খুব প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় ভেবেছিস! আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়ে বর্তমান কর্মসংস্থানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন।
ফারহান: তা ঠিক। কিন্তু কারিগরি শিক্ষার নির্দিষ্ট সুবিধাগুলো কী?
তৌফিক: কারিগরি শিক্ষা শিক্ষার্থীকে সরাসরি বাস্তবমুখী ও ব্যবহারিক দক্ষতাসম্পন্ন করে তোলে। এর ফলে পড়াশোনা শেষ করেই সহজে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তোলা যায় অথবা শিল্প-কারখানায় চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়। এটি বেকারত্ব হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ফারহান: অর্থাৎ শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে উদ্যোক্তা হওয়া যায়!
তৌফিক: একদম তাই! তাছাড়া উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখবি, তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনে কারিগরি দক্ষ জনশক্তির অবদান সবচেয়ে বেশি। তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, মেকানিক্যালসহ নানা ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি দেশের জাতীয় উৎপাদন বাড়ায়।
ফারহান: তোর কথা শুনে বুঝতে পারলাম, কারিগরি শিক্ষা দেশকে স্বাবলম্বী করার প্রধান হাতিয়ার।
তৌফিক: ঠিক বলেছিস। আমাদের উচিত কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে দেশের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা।
ফারহান: চমৎকার বুঝিয়ে বললি তৌফিক, অনেক ধন্যবাদ তোকে।
তৌফিক: তোকেও অনেক ধন্যবাদ।


অথবা,

১১.২ খুদেগল্প:

স্বনির্ভরতার জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ চাই

নদীভাঙা প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণ রাকিব। উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর পরিবারের চরম আর্থিক সংকটে যখন তার উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন চারপাশের সবাই ভেবেছিল তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। শহরে গিয়ে স্বল্প বেতনের চাকরির চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি। কিন্তু রাকিব হতাশায় ভেঙে পড়ার পাত্র নয়।

একদিন স্থানীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে সে বাঁশ, বেত ও পাটের হস্তশিল্পের ওপর একটি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তাদের গ্রামে প্রচুর বাঁশ ও পাট সহজলভ্য ছিল। প্রশিক্ষণ শেষে রাকিব নিজের জমানো সামান্য অর্থ এবং ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে বাড়ির আঙিনায় শুরু করে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের কাজ। সে তৈরি করতে থাকে দৃষ্টিনন্দন পাটের ব্যাগ, কার্পেট, শো-পিস এবং বাঁশের তৈরি বিভিন্ন আধুনিক তৈজসপত্র।

প্রথমে স্থানীয় মেলা ও হাটে পণ্য বিক্রি শুরু হলেও সময়ের সাথে সাথে তার তৈরি পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকে। রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে পণ্য বাজারজাত শুরু করে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ রূপ নেয় একটি সমৃদ্ধ কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানে। রাকিব শুধু নিজের পরিবারকেই সচ্ছল করেনি, গ্রামের প্রায় পনেরো জন বেকার তরুণ-তরুণী ও গৃহবধূর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়। রাকিব প্রমাণ করে দিয়েছে—বড় বড় কারখানার অপেক্ষায় না থেকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ ঘটালে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন সম্ভব এবং এটিই পারে গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করতে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন