ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
মুকিম বিল্লায় সমাজের একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজসেবক। সমাজের বিভিন্ন কর্মকান্ডে তাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যার যতটুকু পাপা আছে তা আদায়ের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পক্ষান্তরে অধ্যাপক আবু সালেহ সমাজের অন্যায়, অত্যাচার পছন্দ করেন না। এজন্য সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামসম্মত কাজে উৎসাহিত করতে ও অনুপ্রাণিত করতে পরামর্শ দেন।
- ক)(1)
'ইমাম' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
আমি জিন ও মানবজাতিকে একমাত্র আমারই ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য সৃষ্টি করেছি'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মুকিম বিল্লাহ্-এর কর্মকাণ্ডে কীসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? তা চিহ্নিতপূর্বক ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অধ্যাপক আবু সালেহ-এর কর্মকাণ্ডে কী ফুটে উঠেছে? উহা চিহ্নিতপূর্বক সমাজে এর প্রভাব নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘ইমাম’ শব্দের অর্থ নেতা, পথপ্রদর্শক বা অগ্রণী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পবিত্র কুরআনের সূরা আয-যারিয়াতের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন— "আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমারই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি।"
এর অর্থ হলো, মানুষ ও জিন জাতির সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদকে স্বীকার করা এবং তাঁর দেয়া বিধিবিধান ও আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। কেবল আনুষ্ঠানিক উপাসনাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল সৎকাজই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মুকিম বিল্লাহ্-এর কর্মকাণ্ডে ন্যায়পরায়ণতা বা আদল এবং হক বা অধিকার আদায়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ইসলামে ইনসাফ বা ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত ও সামাজিক দায়িত্ব। ইসলামে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন প্রত্যেকের প্রাপ্যতা বা অধিকার যথাযথভাবে প্রদান করা হয়। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কারও হকে কমবেশি না করে সুবিচার করা অপরিহার্য।
উদ্দীপকের মুকিম বিল্লাহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যার যতটুকু প্রাপ্য তা সঠিকভাবে আদায়ের ব্যবস্থা নেন। এটি ইসলামের ন্যায়বিচার (‘আদল’) ও মানুষের অধিকার আদায়ের নীতিকে নির্দেশ করে, যা একটি শান্তিময় সমাজ গঠনের ভিত্তি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অধ্যাপক আবু সালেহ-এর কর্মকাণ্ডে ইসলামের মৌলিক দায়িত্ব 'আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার' বা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার মহৎ নীতি ফুটে উঠেছে।
ইসলামে প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব হলো অন্যায়, অসত্য ও জুলুমকে ঘৃণা করা এবং তা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। একই সাথে সমাজে কল্যাণমূলক ও সৎকাজ উৎসাহিত করা। অধ্যাপক আবু সালেহ সমাজের অন্যায়-অত্যাচার পছন্দ করেন না এবং সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে ইসলামসম্মত কাজে মানুষকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেন।
সমাজে এর প্রভাব:
১. অন্যায় প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা: অসৎকাজে বাধা প্রদান করলে অপরাধীদের অপতৎপরতা কমে আসে এবং সমাজে জানমালের নিরাপত্তা তৈরি হয়।
২. সৎকাজের প্রসার: মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করলে পারস্পরিক সহানুভূতি, দয়া ও সহযোগিতার মানসিকতা বৃদ্ধি পায়।
৩. শান্তি ও শৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠা: সমাজে পাপের বদলে পুণ্য চর্চা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্থিতিশীল ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হয়।অতএব, অধ্যাপক আবু সালেহ-এর এই উদ্যোগ সমাজে ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও