অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশের কৃষির দুটি উপখাতের GDP-এর খাতওয়ারি প্রবৃদ্ধির হার নিম্নরূপ:

খাত | ২০১০-১১ | ২০১১-১২ | ২০১১-১২
প্রাণিসম্পদ | ৩.৪৮ | ৩.৩৯ | ৩.৪৯
বনজসম্পদ | ৩.৯০ | ৪.৪২ | ৪.৪৭

  1. ক)

    কৃষি বিপণন কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃষিখামার ও কৃষিজোত কোন অর্থে এক নয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক থেকে বনজ সম্পদের প্রবৃদ্ধির হার লেখচিত্রের সাহায্যে দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের GDP-তে দুটি খাতের অবদানের তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষিপণ্য উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত যাবতীয় অর্থনৈতিক ও বিপণনমূলক কার্যাবলিকে কৃষি বিপণন বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষিজোত হলো একজন কৃষকের মালিকানাধীন বা চাষাধীন মোট জমির পরিমাণ। অন্যদিকে, কৃষিখামার হলো একটি একক উৎপাদন ইউনিট বা অর্থনৈতিক সংগঠন, যেখানে একই ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশনায় কৃষি উৎপাদন পরিচালিত হয়।
    কৃষিজোত মূলত জমির মালিকানা ও আয়তনকে নির্দেশ করে, আর কৃষিখামার হলো সেই জমি ব্যবহারের প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিচালনগত রূপ। তাই ধারণাগত ও ব্যবহারিক দিক থেকে কৃষিখামার ও কৃষিজোত এক নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত বনজসম্পদের প্রবৃদ্ধির হার হলো: ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩.৯০%, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪.৪২% এবং পরবর্তী বছর (২০১২-১৩) ৪.৪৭%।

    লেখচিত্রের বর্ণনা:
    ১. অক্ষ নির্ধারণ: একটি দ্বি-মাত্রিক লেখচিত্রের ভূমি অক্ষ বা X-অক্ষে 'অর্থবছর' (২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩) এবং লম্ব অক্ষ বা Y-অক্ষে 'প্রবৃদ্ধির হার (%)' স্থাপন করি।
    ২. বিন্দু স্থাপন:

    • ২০১০-১১ অর্থবছরের বিপরীতে Y-অক্ষে ৩.৯০ মান নিয়ে বিন্দু (A) চিহ্নিত করি।
    • ২০১১-১২ অর্থবছরের বিপরীতে Y-অক্ষে ৪.৪২ মান নিয়ে বিন্দু (B) চিহ্নিত করি।
    • পরবর্তী অর্থবছরের বিপরীতে Y-অক্ষে ৪.৪৭ মান নিয়ে বিন্দু (C) চিহ্নিত করি।
      ৩. রেখা অঙ্কন: A, B ও C বিন্দুগুলো ক্রমান্বয়ে সরলরেখা দ্বারা যুক্ত করলে একটি ঊর্ধ্বগামী রেখা পাওয়া যায়।

    এই লেখচিত্রটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে বনজসম্পদ উপখাতে প্রবৃদ্ধির হার বছরভিত্তিক ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির আওতাধীন প্রাণিসম্পদ ও বনজসম্পদ উপখাত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকের তথ্য ও সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে এদের তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. প্রবৃদ্ধির তুলনামূলক প্রবণতা:
    উদ্দীপকের সারণি অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪৮%, যা ২০১১-১২ তে সামান্য কমে ৩.৩৯% হয় এবং পরবর্তী সময়ে ৩.৪৯%-এ উন্নীত হয়। অর্থাৎ প্রাণিসম্পদের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে প্রায় স্থিতিশীল ও মন্থর। অপরদিকে বনজসম্পদ খাতে ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৯০%, যা পরবর্তী দুই সময়ে যথাক্রমে ৪.৪২% ও ৪.৪৭%-এ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবৃদ্ধির হারের দিক থেকে বনজসম্পদ উপখাত প্রাণিসম্পদের চেয়ে দ্রুত অগ্রসরমান ছিল।

    ২. কর্মসংস্থান ও পুষ্টি নিরাপত্তা:
    জিডিপিতে সরাসরি প্রবৃদ্ধির হার বনজসম্পদে বেশি হলেও কর্মসংস্থান ও পুষ্টি নিরাপত্তায় প্রাণিসম্পদের অবদান অনেক বেশি প্রত্যক্ষ। প্রাণিসম্পদ খাত দুধ, ডিম ও মাংস সরবরাহের মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি চাহিদা মেটায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

    ৩. পরিবেশগত ভারসাম্য ও টেকসই উন্নয়ন:
    বনজসম্পদ কাঠ ও কাঁচামাল সরবরাহের মাধ্যমে জিডিপিতে অবদানের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হ্রাস ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

    সুতরাং, জিডিপির প্রবৃদ্ধির গতি বিবেচনায় বনজসম্পদ উপখাত এগিয়ে থাকলেও দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি সরবরাহ ও সার্বিক জীবিকা নির্বাহের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাণিসম্পদ উপখাতের তাৎপর্য কোনো অংশে কম নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন