জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জীববিজ্ঞানের ক্লাসে শিক্ষক বললেন যে আমাদের মেরুদণ্ড কতগুলো কশেরুকার সমন্বয়ে গঠিত। কশেরুকাগুলোর মধ্যে একটি আংটি আকৃতির। এটি কঙ্কালতন্ত্রের একটি অংশ। মানবদেহের চলনে এই তন্ত্র ছাড়াও পেশীতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
ফ্যাসিকুলাস কী ?
- খ)(2)
কোন তরুণাস্থি হাড়ের মত শক্ত এবং কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কশেরুকাটির চিত্রসহ গঠন ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই ধরনের তন্ত্রের সমন্বিত কার্যক্রমেই দেহ সঞ্চালিত হয়-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কঙ্কাল পেশীর অণুপেশীতন্ত্র বা পেশীতন্তুর গুচ্ছ যা পেরিমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণী দিয়ে বেষ্টিত থাকে, তাকে ফ্যাসিকুলাস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্যালসিফাইড বা চুনময় তরুণাস্থি হাড়ের মতো শক্ত হয়।
কারণ: এই ধরনের তরুণাস্থির মাতৃকা বা ম্যাট্রিক্সে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও ক্যালসিয়ামের অজৈব লবণ জমা হয়। খনিজ লবণের এই সঞ্চয়নের কারণে ম্যাট্রিক্সটি অত্যন্ত ঘন, দৃঢ় এবং ভঙ্গুর রূপ ধারণ করে, যা তরুণাস্থিকে হাড়ের মতো শক্ত কাঠামো প্রদান করে। যেমন- হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তকে ক্যালসিফাইড তরুণাস্থি দেখা যায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আংটি আকৃতির কশেরুকাটি হলো মানুষের গ্রীবাদেশীয় প্রথম কশেরুকা—অ্যাটলাস (Atlas)।
[অ্যাটলাসের একটি চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে]
অ্যাটলাসের গঠনগত বৈশিষ্ট্য:
১. দেহবিহীন: এই কশেরুকায় কোনো সেন্ট্রাম বা দেহ থাকে না। সেন্ট্রামের পরিবর্তে এটি সামনের দিকে একটি পূর্ববর্তী বা সম্মুখ আর্চ (Anterior arch) নিয়ে গঠিত।
২. আংটি আকৃতি: এটি মূলত সম্মুখ আর্চ, পশ্চাৎ আর্চ (Posterior arch) এবং দুটি পার্শ্বীয় পিণ্ড (Lateral masses) নিয়ে গঠিত একটি সুষম বলয় বা আংটির মতো কাঠামো তৈরি করে।
৩. বড় নিউরাল ছিদ্র: কশেরুকা নালী বা ভার্টিব্রাল ফোরামেন অত্যন্ত প্রশস্ত ও বড় হয়, যা ওডন্টয়েড প্রক্রিয়া এবং সুষুম্নাকাণ্ডের জন্য বিভক্ত থাকে।
৪. ট্রান্সভার্স প্রসেস: এর উভয় পাশে ট্রান্সভার্স প্রসেসগুলো চ্যাপ্টা ও প্রশস্ত এবং এতে ভার্টিব্রো-আর্টারিয়াল ফোরামেন বিদ্যমান থাকে।
৫. আর্টিকুলার ফ্যাসেট: অ্যাটলাসের ওপরের দিকে অবতল সুপিরিয়র আর্টিকুলার ফ্যাসেট থাকে, যা করোটির অক্সিপিটাল কন্ডাইলের সাথে যুক্ত হয়ে 'ইয়েস জয়েন্ট' গঠন করে এবং মাথাকে উপর-নিচ নাড়াতে সাহায্য করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্ত্র দুটি হলো কঙ্কালতন্ত্র ও পেশীতন্ত্র। মানবদেহের চলন ও অঙ্গ সঞ্চালন কোনো একক তন্ত্রের পক্ষে সম্ভব নয়; বরং এদের পারস্পরিক সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমেই দেহ সঞ্চালিত হয়। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কাঠামো ও লিভার ব্যবস্থা হিসেবে কঙ্কালতন্ত্র: কঙ্কালতন্ত্র অস্থি ও অস্থিসন্ধির মাধ্যমে দেহের দৃঢ় কাঠামো তৈরি করে। অস্থিগুলো পেশীর সংযুক্তির জন্য তল প্রদান করে এবং যান্ত্রিক লিভারের মতো কাজ করে শরীরের ভারসাম্য ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
২. পেশীতন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণ: কঙ্কাল পেশীগুলো টেনডনের মাধ্যমে অস্থির সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত থাকে। স্নায়বিক উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়ায় পেশীগুলো দ্রুত ও ঐচ্ছিকভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়, যা চলনের চালিকাশক্তি বা বল (effort) জোগায়।
৩. সমন্বিত চলন কৌশল:
- পেশীর যুগল ক্রিয়া (Antagonistic pairs): কোনো অস্থি সঞ্চালনের সময় পেশী জোড়ায় জোড়ায় বিপরীতভাবে কাজ করে। যেমন—কনুই বাঁকানোর সময় বাইসেপস পেশী সংকুচিত হয়ে রেডিয়াস ও আলনাকে টানে (ফ্লেক্সন) এবং ট্রাইসেপস শিথিল হয়। আবার হাত সোজা করার সময় ট্রাইসেপস সংকুচিত (এক্সটেনশন) হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
- অস্থির স্থানান্তর: পেশীর সংকোচনে উৎপন্ন টান টেনডনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অস্থিতে স্থানান্তরিত হয়, যার ফলে অস্থিসন্ধি পিভট হিসেবে কাজ করে এবং অঙ্গ সঞ্চালিত হয়।
অতএব, কঙ্কালতন্ত্র কাঠামো ও নোঙর প্রদান করে এবং পেশীতন্ত্র তাতে জৈবিক বল প্রয়োগ করে—এই দুই তন্ত্রের যুগপৎ ও সমন্বিত কার্যক্রমেই মানুষের চলন ও স্বাভাবিক দেহ সঞ্চালন সম্পন্ন হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও