বাংলা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

11.1.

‘শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা’ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংলাপ রচনা করো।

11.2.

নিচের উদ্দীপক অনুসরণে একটি খুদেগল্প লেখো:পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে গিয়ে লেখাপড়া ছেড়ে চাকরি নিয়েছে রাজু। ছোটো ভাই মিঠু ও বোন মিনার মধ্যেই সে দেখতে পায় তার স্বপ্ন পূরণের ..........

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১১.১. ‘শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা’ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংলাপ:

শিক্ষার্থী (সাকিব): আসসালামু আলাইকুম, স্যার। আপনি কি একটু সময় দিতে পারবেন? সমসাময়িক একটি বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছিলাম।
শিক্ষক: ওয়ালাইকুম আসসালাম, সাকিব। নিশ্চয়ই! বলো, কী বিষয়?
শিক্ষার্থী: স্যার, সাম্প্রতিক সময়ে পত্রিকা ও গণমাধ্যমে শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতার নানা খবর দেখে খুব শঙ্কিত বোধ করছি। এই সহিংসতার কারণ আসলে কী?
শিক্ষক: তোমার সচেতনতা প্রশংসনীয়, সাকিব। এটি সত্যিই অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর মূলে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, পারিবারিক ও সামাজিক নৈতিক শিক্ষার অভাব, আইনের যথাযথ প্রয়োগের শিথিলতা এবং মাদকের বিস্তার। নারীর সমান অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে সচেতনতার অভাবও এর অন্যতম কারণ।
শিক্ষার্থী: স্যার, শিশুদের ক্ষেত্রেও কেন এমন নিষ্ঠুরতা দেখা যায়?
শিক্ষক: শিশুরা সম্পূর্ণ অসহায় ও আত্মরক্ষায় অক্ষম। পারিবারিক কলহ, দারিদ্র্য, মানসিক বিকৃতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের কারণে অনেক সময় শিশুরাও নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়।
শিক্ষার্থী: এই সংকট উত্তরণে আমাদের কী করণীয়, স্যার?
শিক্ষক: প্রথমত, পরিবারের ভেতর থেকেই নারী ও শিশুর প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, কঠোর আইনের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং নারীদের আত্মনির্ভরশীল করা আবশ্যক।
শিক্ষার্থী: বুঝতে পারলাম স্যার। আমরা তরুণ প্রজন্মও পারি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ভূমিকা রাখতে। অনেক ধন্যবাদ স্যার।
শিক্ষক: তোমাকেও ধন্যবাদ, সাকিব। ভালো থেকো।


১১.২. খুদেগল্প:

অসমাপ্ত স্বপ্নের সারথি

পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে গিয়ে লেখাপড়া ছেড়ে চাকরি নিয়েছে রাজু। ছোটো ভাই মিঠু ও বোন মিনার মধ্যেই সে দেখতে পায় তার স্বপ্ন পূরণের প্রতিচ্ছবি। নিজের ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে সে একটি স্থানীয় কারখানায় হাড়ভাঙা খাটুনি শুরু করে। মাস শেষে স্বল্প বেতনের সামান্যতম টাকাও নিজের জন্য খরচ করত না; সব তুলে দিত মায়ের হাতে, যাতে মিঠু আর মিনার পড়ার খরচ ও গৃহস্থালি ঠিকঠাক চলে।

দিন গড়ায়, রাজুর ত্যাগের মূল্য দিতে থাকে দুই ভাইবোন। তারা বুঝতে পারত দাদার ক্লান্ত চোখের ভেতরের নীরব আর্তি। মিঠু মনোযোগ দিয়ে বিজ্ঞান পড়ত, আর মিনার ঝোঁক ছিল সাহিত্যে। শত অভাব-অনটনের মাঝেও রাজু কখনো ভাইবোনের হাসিমুখ মলিন হতে দেয়নি। পরীক্ষার ফি, বই-খাতার অভাব হতে দেয়নি কখনো ওভারটাইম কাজ করে হলেও।

দশ বছর পর, ত্যাগের সেই কঠোর তপস্যা সফল হলো। মিঠু আজ দেশের নামকরা মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তার হয়ে বেরিয়েছে, আর মিনা বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছে। সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে যখন দুই ভাইবোন মঞ্চে উঠল, মাইক হাতে নিয়ে তারা বলল, "আজকের এই সাফল্য আমাদের নয়, আমাদের বড় ভাই রাজুর আত্মত্যাগের ফসল।" দর্শকের সারিতে বসে রাজুর চোখ দিয়ে তখন আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। নিজের ফেলে আসা জীবনের সব স্বপ্ন যেন ভাইবোনের হাসিতে আজ সার্থক ও পূর্ণতা পেয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন