পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. 'ক' স্বল্প বেতনের একজন চাকরিজীবী স্ত্রী । সন্তান নিয়ে কোনরকম সংসার চলে। মাত্র ২/৩ বছরের ব্যবধানে অদৃশ্য আয়ে মি. 'ক' গ্রামের কয়েক বিঘা জমির এবং ঢাকা শহরে বড় দুটি ফ্ল্যাটের মালিক হলেন। মি. 'ক' স্বল্প আয়ে অল্প সময়ে অধিক সম্পদের মালিক হওয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানের নজরে আসে। প্রতিষ্ঠানটি মি. 'ক' এর আয়ের উৎস অনুসন্ধান করে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনের সহায়তা পায়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মি. 'ক' কে গ্রেফতার করে আদালতের সোর্পন করে। আদালতের সাক্ষ্য প্রমাণে মি. 'ক' অপরাধী প্রমাণিত হয় এবং আদালত তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করে।
- ক)(1)
দুদক কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. 'ক' এর কর্মকাণ্ডে কোন ধরনের নাগরিক সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শারীরিক, মানসিক, সংবেদনশীল বা বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনযাপন ও বিকাশের জন্য সাধারণ মানুষের চেয়ে অতিরিক্ত যত্ন, বিশেষ ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয়, তাদের বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী বলে। এদের মধ্যে অটিস্টিক শিশু, শারীরিক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. 'ক'-এর কর্মকাণ্ডে 'দুর্নীতি' নামক সামাজিক ও নাগরিক সমস্যাটি প্রকাশ পেয়েছে।
নিজের পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও দায়িত্বের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে অনৈতিক ও অবৈধ উপায়ে অর্থ-সম্পদ অর্জন করাকে দুর্নীতি বলে। উদ্দীপকে মি. 'ক' স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ২/৩ বছরের ব্যবধানে ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ পথে প্রচুর অর্থবিত্ত, কয়েক বিঘা জমি ও একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হন। তাঁর এই অস্বাভাবিক ও দৃশ্যমান আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন একটি স্পষ্ট দুর্নীতির দৃষ্টান্ত। দুর্নীতি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ করে, সুশাসন বিনষ্ট করে এবং সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এ প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হলো দুর্নীতি। উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. 'ক'-এর অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য অনুসন্ধান করে প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতের মুখোমুখি করে এবং অপরাধী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে দণ্ড দেন। দুদক একইভাবে দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে থাকে।
দুদকের কার্যকর কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হয়, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং সরকারি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। প্রতিষ্ঠানটি যদি সম্পূর্ণ স্বাধীন, প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে, তবে সমাজে দুর্নীতির মাত্রা হ্রাস পায়। ফলে রাষ্ট্রে সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং সামগ্রিক সুশাসন অর্জিত হয়। অতএব, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুদকের ভূমিকা অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও