বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ লেখো:
11.1.
স্বদেশপ্রেম
11.2.
বাংলাদেশের পোশাকশিল্প
11.3.
একুশ শতকে পল্লী উন্নয়ন ও বাংলাদেশ
11.4.
তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ
11.5.
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও তার প্রতিকার
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বদেশপ্রেম
ভূমিকা:
স্বদেশপ্রেম মানুষের একটি সহজাত ও মহৎ মানবিক গুণ। নিজের জন্মভূমি, তার প্রকৃতি, ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি আত্মিক ও গভীর ভালোবাসাই হলো স্বদেশপ্রেম। দেশপ্রেম মানুষের সংকীর্ণ স্বার্থপরতাকে দূর করে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে। প্রখ্যাত ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ারের মতে, "মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এক স্বর্গীয় অনুভূতি।"
স্বদেশপ্রেমের স্বরূপ:
স্বদেশপ্রেম কেবল মুখের ফাঁকা বুলিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত এক নিঃস্বার্থ টান। মানুষ যে দেশে জন্ম নেয়, যার আলো-বাতাস, ফলমূল ও জলধারায় লালিত-পালিত হয়, সেই দেশের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই জন্মায় গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ। জননী ও জন্মভূমি উভয়কেই স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ মনে করা হয়—'জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী'।
ইতিহাসে স্বদেশপ্রেম ও বাংলাদেশ:
বাঙালি জাতির ইতিহাস স্বদেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের বীর সন্তানরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা, যার মূলে ছিল দেশপ্রেমের অপ্রতিরোধ্য শক্তি।
স্বদেশপ্রেম বনাম অন্ধ স্বদেশপ্রেম (উগ্র জাতীয়তাবাদ):
স্বদেশপ্রেম মহৎ গুণ হলেও উগ্র বা অন্ধ স্বদেশপ্রেম মানবজাতির জন্য বিপজ্জনক। অন্ধ স্বদেশপ্রেম মানুষকে অন্য জাতির প্রতি পরশ্রীকাতর, বিদ্বেষী ও আক্রমণাত্মক করে তোলে, যা বিশ্বশান্তির পরিপন্থী। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যথার্থই বলেছেন—"দেশপ্রেম যদি বিশ্বপ্রেমের পরিপন্থী হয়, তবে তা কখনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।" প্রকৃত স্বদেশপ্রেম সবসময় বিশ্বমানবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
জাতীয় জীবনে স্বদেশপ্রেমের গুরুত্ব ও আমাদের দায়িত্ব:
একটি দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে দেশপ্রেম অপরিহার্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল যুদ্ধ করাই দেশপ্রেম নয়; বরং দেশের আইন মেনে চলা, নিজ নিজ দায়িত্ব সততার সাথে পালন করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং দেশের সম্পদে হাত না দেওয়াও বড় মাপের দেশপ্রেম। ছাত্রসমাজকে সুশিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে সমাজ সংস্কার ও জাতীয় উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
উপসংহার:
স্বদেশপ্রেম মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও মহিমান্বিত করে। যে মানুষ দেশকে ভালোবাসে না, সে কখনো প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। তাই প্রতিটি নাগরিকের উচিত সংকীর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট থাকা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও