পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে বাদ দিয়ে অন্য ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু তার প্রতিবাদে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কী ছিল?
- খ)(2)
মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব বর্ণনা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের সাথে কোন ঐতিহাসিক আন্দোলনের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
'ক' রাষ্ট্রের পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে উক্ত আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় মুজিবনগর সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম বৈধ ও সাংবিধানিক সরকার, যার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধ একটি নিয়মতান্ত্রিক রূপ লাভ করে। এই সরকার অভ্যন্তরীণভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে সামরিক পরিচালনা নিশ্চিত করে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষে বিশ্বজনমত গঠন ও কূটনৈতিক স্বীকৃতি অর্জনে অবিস্মরণীয় অবদান রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের সাথে পূর্ব বাংলার ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের (১৯৪৮-১৯৫২) প্রত্যক্ষ সামঞ্জস্য পাওয়া যায়।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশের মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। তৎকালীন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ঘোষণা করেন 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'।
সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠী এই অবিচার মেনে নেয়নি। তারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৪৮ সাল থেকেই তীব্র প্রতিবাদ ও সংগ্রাম গড়ে তোলে, যা ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে অন্য ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা এবং তার বিরুদ্ধে জনতার তীব্র প্রতিবাদী আন্দোলন মূলত আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনকেই তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক' রাষ্ট্র তথা তৎকালীন পাকিস্তানের পরবর্তী সামগ্রিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম ও নির্ধারক।
প্রথমত, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম সম্মিলিত ও সফল জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে। এই আন্দোলন বাঙালিকে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের সংকীর্ণতা থেকে বের করে সেক্যুলার ও আধুনিক ভাষাগত-সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত করে।
দ্বিতীয়ত, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয় অর্জিত হয় এবং মুসলিম লীগের রাজনৈতিক পতন ঘটে। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দিতে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন—প্রতিটি রাজনৈতিক মাইলফলকের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি ছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে অর্জিত আত্মবিশ্বাস ও প্রতিরোধ চেতনা।
পরিশেষে, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি যে রক্ত দিয়ে দাবি আদায়ের সাহস অর্জন করেছিল, তারই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়। তাই বলা যায়, তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং বাংলাদেশের সৃষ্টিতে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ছিল মৌলিক ও অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও